গাজীপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে দুই পুলিশ সদস্য আহত—অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা পুলিশ কমিশনারের
গাজীপুর মহানগরের ভোড়া এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের সময় পুলিশের দুই সদস্য হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার মধ্যরাতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। আহত দুই সদস্য—এএসআই আব্দুর রশিদ ও কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম—কে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কী ঘটেছিল অভিযানের রাতে
পুলিশ জানায়, মাদক মামলার আসামি আব্রাহাম রায়হানের আলামত জব্দ ও মামলার পলাতক মাদক কারবারি মমতাজ এবং শাহ জামাল ওরফে মালা পাগলাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশ সদস্যদের ওপর আকস্মিক হামলা হয়।
হামলার সময় এএসআই রশিদ জ্ঞান হারান এবং কনস্টেবল সাইফুল ইসলামও দুই দফায় গণহামলার শিকার হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগান চার্জ করে। ধস্তাধস্তির সময় একটি সরকারি অস্ত্র ও ওয়াকিটকি হারিয়ে গেলেও পরে সেগুলো উদ্ধার করা হয়।
সাদা পোশাকধারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ঘটনার পর স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ ওঠে—সাদা পোশাকধারী দুই ব্যক্তি একটি বাড়িতে ঢুকে নগদ ৫ লাখ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণ নিয়ে যায় এবং পরে মোটরসাইকেল আনতে গেলে জনতা তাদের গণধোলাই দেয়। এছাড়া কিছু ঘরে ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
কমিশনারের কঠোর ঘোষণা
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা জানিয়ে বলেন—
“অভিযোগের সবকিছু নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। অন্যায় করলে কেউ ছাড় পাবে না—সে পুলিশ সদস্যই হোক বা সাধারণ নাগরিক।”তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্তে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন—
“মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। তবে অভিযানের নামে কেউ দায়িত্বের বাইরে গিয়ে অনিয়ম করলে তাকেও আইনের মুখোমুখি হতে হবে। আইন সবার জন্য সমান।”স্থানীয়দের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে
কনের বাবা খোরশেদ আলম দাবি করেন, সাদা পোশাকধারী দুই ব্যক্তি তার বাড়িতে ঢুকে টাকা ও স্বর্ণ নেওয়ার পর পালানোর চেষ্টা করলে জনতা তাদের আটকায়।
এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন—
“তদন্ত কমিটি অভিযোগগুলো যাচাই করছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডিসি ও ওসির বক্তব্য
গাজীপুর মেট্রো পুলিশের ডিসি (অপরাধ-উত্তর) রবিউল হাসান বলেন—
“জনগণের সহযোগিতা ছাড়া মাদক দমন সম্ভব নয়।”
গাজীপুর সদর মেট্রো থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান—
“মাদকবিরোধী অভিযানে বাধা দুঃখজনক। হামলাকারীদের শনাক্তে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ।