নাহিদ ইসলাম, রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহী পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (ওয়াসা) নতুন পাইপলাইন স্থাপনের কাজের জন্য এবার শতাধিক গাছের ডালপালা কেটে ফেলা হচ্ছে। নগরের বিমানচত্ত্বর-বিহাস সড়কের একপাশের এই গাছগুলোর বেশিরভাগই কৃষ্ণচূড়া। গ্রীষ্ণের কাঠফাটা রোদের মধ্যে গাছগুলো এ সড়কের পথচারীদের ছায়া দেয়। চোখ জুড়ানো কৃষ্ণচূড়া ভুলিয়ে দেয় ক্লান্তি।রাজশাহী নগরের পানির চাহিদা মেটাতে শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে গোদাগাড়ী উপজেলার সারেংপুরে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বসানো হচ্ছে। সেখান থেকে পদ্মার পরিশোধিত পানি আসবে শহরে। প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার এ মেগাপ্রকল্পে শহরের ভেতরেও ৪১ কিলোমিটার পাইপলাইন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের জন্য রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের এক পাশে গাছ কেটে সম্প্রতি সমালোচনার মুখে পড়ে ওয়াসা।এবার রাজশাহী নগরের বিমান চত্ত্বর থেকে বিহাস সড়কের একপাশে শতাধিক গাছের ডালপালা কাটা পড়ছে। চার লেনের দৃষ্টিনন্দন এ সড়কটির দুপাশে রয়েছে কৃষ্ণচূড়াসহ নানা প্রজাতির গাছ। রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) গাছগুলোর পরিচর্যা করে। সড়কের একপাশ দিয়ে ওয়াসা পাইপলাইন বসাচ্ছে। এ জন্য ফুটপাতে থাকা গাছের ডালপালা কাটা পড়ছে।সোমবার দুপুরে নাদের হাজির মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের কিছু অংশে এক দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এক্সকেভেটর যন্ত্র দিয়ে সড়ক খননের পর ক্রেন দিয়ে পাইপ বসানো হচ্ছে। এক্সকেভেটর ও ক্রেন চালাতে গিয়ে গাছের ডাল ভেঙে যাচ্ছে। তাই গাছগুলোর সড়কের দিকে থাকা ডালগুলো কেটে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় লোকজন সেই ডাল নিয়ে যাচ্ছেন। অর্ধেক ডালপালা কাটা অবস্থায় ক্ষত নিয়ে কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে। ওই এলাকায় ৮৬টি কৃষ্ণচূড়া গাছে লাল ও সাদা রং দিয়ে নাম্বারিং করে রাখা দেখা গেছে।স্থানীয় বাসিন্দা জুলফিকার আলী বলেন, ‘পরিকল্পনার অভাব। যেভাবে গাছের ডাল কেটে ফেলা হচ্ছে তাতে গাছগুলো মারা যাওয়ার আশঙ্কা আছে। সড়ক খুঁড়েই পাইপ বসানো হচ্ছে। আর দুই ফুট ফুটপাতের পাশ থেকে সরে পাইপ বসালে গাছগুলো এভাবে নষ্ট হতো না।’সাইটে দায়িত্বে থাকা একজন প্রকৌশলী বলেন, ‘আমরা কোনো গাছ কাটছি না। এক্সকেভেটর ও ক্রেন চালাতে গেলে কিছু ডাল ভেঙে যাচ্ছে। তখন সেগুলো কেটে ফেলতে হচ্ছে।’
রাজশাহীর পরিবেশ আন্দোলনকর্মী আতিকুর রহমান বলেন, ‘গাছ না কাটলে এরা কোন কাজ করতে পারে না, বারবার তারা সেটি প্রমাণ করেছে। সঠিক পরিকল্পনা থাকলে গাছ রক্ষা করেও উন্নয়ন কাজ করা যেত। সড়ক তো তারা খুঁড়ছেই, দুইফুট ভেতর দিকে খুঁড়লে গাছের এমন অঙ্গহানি হতো না। এখনও সুযোগ আছে। তারা যেন গাছের ক্ষতি না করে।’গাছের ডালপালা কাটার ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিবেশ উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ মাহমুদ-উল-ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কারা ডাল কাটছে আমরা জানি না। কেউ অনুমতি নিয়েছে কি না, সেটিও আমি জানি না।’তবে গাছের ডাল কাটার জন্য সিটি করপোরেশনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজশাহী ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ। তিনি বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশন থেকে অনুমতি নিয়েছি। গাছ ফুটপাতে আছে, পাইপ বসছে সড়কে। তাই গাছ কাটার প্রয়োজন নেই। তবে এক্সকেভেটর ও ক্রেন চালাতে গিয়ে কিছু গাছের ডাল ভেঙে যাচ্ছে।’