মোঃ গোলাম মোস্তফা,ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
ভুয়া সনদে নিয়োগ ও বয়স জালিয়াতির অভিযোগে কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসা অচল**কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বাণিজ্য, ভুয়া সনদ, পদবী ও বয়স জালিয়াতি এবং প্রশাসনিক দ্বন্দ্বে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহার হলেও সুপার সাঈদুর রহমানকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত সুপার আমিনুল ইসলাম নিজ ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিক্ষক ও কর্মচারীদের ওপর। টানা ছয় মাস ধরে ১২ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে।
এডহক কমিটির সভাপতি মাহফুজার রহমান জানান, বিধি অনুযায়ী সভা ও রেজুলেশনের মাধ্যমে সুপার সাঈদুর রহমানের সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে। বোর্ড, অধিদপ্তর ও গেজেট অনুসারে তা কার্যকর হলেও ভারপ্রাপ্ত সুপার আমিনুল ইসলাম দায়িত্ব ছাড়ছেন না এবং কমিটিকে না জানিয়েই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক খুরশিদ নুর আলম কাজল (গণিত) ও রতনা পারভীর (কম্পিউটার) এবং সহ-মৌলভী মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ভুয়া এনটিআরসিএ নিবন্ধনের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫ সালে তাদের সনদ যাচাইয়ে অসঙ্গতি পাওয়া যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, আমিনুল ইসলাম ২৩ বছর ধরে সহ-সুপার ও সহ-মৌলভী—দুটি পদে অনিয়মিতভাবে অবস্থান করছেন। পদবী সংশোধন না করায় তার বেতন ২০২২ সালে বন্ধ হলেও পরে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি পুনরায় বেতন তুলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ কারণে ২০১৪ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী মৌলভী তৈয়বুর রহমান এখনও এমপিওভুক্ত হননি।
চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মজিবর রহমানের জন্মসাল ১৯৬২ হওয়ায় ২০২২ সালে তার চাকরি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এমপিওতে ১৯৬৯ দেখিয়ে তার বয়স সাত বছর কমানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত সুপার আমিনুলের প্রত্যয়ন ও জেলা নির্বাচন অফিসের সহযোগিতায় আদালতের আদেশ ছাড়াই তার বয়স সংশোধন করে প্রায় তিন বছরের স্থগিত বেতন উত্তোলন করা হয়েছে।
সাবেক সুপার আব্দুল জলিল জানান, মজিবরের একটি প্রশংসাপত্র তিনি নিজ হাতে লিখেছিলেন, তবে ১৯৬৯ সালের প্রশংসাপত্রটি তার লেখা নয়।
২০০২ সালে সহ-সুপার, অফিস সহকারী ও অন্যান্য পদে নিয়োগে লিখিত ও ভাইভায় নম্বর জালিয়াতি, অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ ও পরে পদ পরিবর্তনের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সফিয়ার রহমানের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার নম্বর পরিবর্তন ও অবৈধভাবে পদ পরিবর্তনের তথ্য নথিতে মিলেছে।
ভারপ্রাপ্ত সুপার পরীক্ষার ফল প্রকাশ না করেই নতুন বই বিতরণ করেছেন। তথ্যমতে, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে মাত্র ২ জন এবং মোট ২১২ জনের মধ্যে ৫৬ জন পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল। বই নিতে উপস্থিত ছিল ৫০ জনেরও কম।
জেলা নির্বাচন অফিসার আলমগীর জানান, মজিবরের জমা দেওয়া কাগজপত্র অনুযায়ী জন্ম তারিখ সংশোধন করা হয়েছে, আদালতের আদেশ এলে তা সংশোধন করা হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিষয়টি জটিল, তিনটি গোপন প্রতিবেদন ইউএনওকে দেওয়া হয়েছে।
নতুন ইউএনও শাহাদাৎ হোসেন জানান, দুই পক্ষের কাগজপত্র দেখে নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে ভুয়া সনদ, বয়স জালিয়াতি, নিয়োগ বাণিজ্য ও প্রশাসনিক অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।