মোঃ আনিছ হামজা, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি | ১২ মার্চ ২০২৬
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত গাছ থেকে ফল পাড়ানোর দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে এক সংবাদকর্মীর ওপর হামলার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মালিক মিয়া (হুজুর) বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মালিক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে বা নির্দেশ দিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত গাছ থেকে সুপারি, তেঁতুলসহ নানা ধরনের মৌসুমি ফল পাড়ানোর কাজে ব্যবহার করে আসছেন। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা যেমন ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তেমনি তাদের পড়াশোনার সময়ও নষ্ট হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে তিনি ‘দ্বারন ক্বেরাত’ নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে এসে নিজের বাড়ির একটি বড় তেঁতুল গাছে উঠিয়ে ফল পাড়ানোর কাজে নিয়োজিত করেন। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, ওই গাছটি বেশ উঁচু এবং মগডালে উঠা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এ সময় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি নজরে আসে ‘ ্দৈনিক জনতার দেশ কণ্ঠ’ পত্রিকার মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধির। শিক্ষার্থীদের দিয়ে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানোর বিষয়টি জনস্বার্থে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে তিনি ভিডিও ও ছবি ধারণ করতে শুরু করেন।
কিন্তু ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে বুঝতে পেরে মালিক মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে ওই সংবাদকর্মীর ওপর চড়াও হন এবং ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে বলেন। এক পর্যায়ে তিনি সাংবাদিককে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালান এবং মারমুখী আচরণ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
মালিক মিয়ার বাধা ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে ভিডিও ধারণ সম্পূর্ণ করা সম্ভব না হলেও, সাহসী ওই সংবাদকর্মী ঘটনাস্থলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থিরচিত্র (ছবি) সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে গাছের মগডালে উঠিয়ে ফল পাড়ানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অনৈতিক বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকেই।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, একজন সাংবাদিক যখন জনস্বার্থে কোনো ঘটনার চিত্র ধারণ করেন, তখন তাকে বাধা দেওয়া বা হামলার চেষ্টা করা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মালিক মিয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ঘটনায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহলও। তারা আশা করছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
#মৌলভীবাজার #সাংবাদিকের_ওপর_হামলার_চেষ্টা #শিক্ষার্থী #গণমাধ্যমের_স্বাধীনতা #বাংলাদেশ_সংবাদ
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান