রিপন মিয়া, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বদলি হলেও এখনো দায়িত্ব ছাড়ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, যোগদানকারী প্রকৌশলী গোলাম সামদানী ১৭ দিন পার হলেও এখনো দায়িত্ব বুঝে পাননি। এতে করে অফিসের উন্নয়নকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীরা সিংগাইর উপজেলা প্রকৌশল অফিসে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। এ সময় প্রকৌশলীর কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার চেয়ার ফাঁকা রয়েছে। আর পাশেই বসে সদ্য যোগদানকারী প্রকৌশলী গোলাম সামদানী সময় পার করছেন।
গোলাম সামদানী জানান, গত ২৯ মার্চ তার বদলির আদেশ হয়। এরপর মানিকগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয়ের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রতিদিনই তিনি সিংগাইরে অফিস করছেন। কিন্তু দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া প্রমোশনের অজুহাতে এখনো দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। তিনি বলেন, দ্রুত দায়িত্ব বুঝে না পেলে জুন ক্লোজিং ও উন্নয়ন কাজ নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।
এ বিষয়ে অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম ও মাহাবুল ইসলামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, তার শিগগিরই প্রমোশন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে তিনি এখনই চার্জ বুঝিয়ে দিচ্ছেন না এবং এটিকে তিনি এক ধরনের ‘স্যাক্রিফাইস’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জুন ক্লোজিংয়ের সময় বিভিন্ন প্রকল্পের ঠিকাদারদের বিল-ভাউচার পাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক বিষয় জড়িত থাকায় তিনি দায়িত্ব ছাড়তে অনাগ্রহী।
এ বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার বলেন, বদলির আদেশ হলেও তিনি এখনো দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি—এটি তার জানা আছে। তবে বিধি অনুযায়ী অর্ডার কপি তার কাছে আসার কথা থাকলেও এখনো পাননি।
এদিকে, মানিকগঞ্জের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী (এলজিইডি) হুমায়ুন কবির জানান, নির্বাহী প্রকৌশলী দেশের বাইরে থাকলেও আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়াকে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান