বাছির ইসলাম, কুলিয়ারচর উপজেলা প্রতিনিধি,
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের ডুমরাকান্দা থেকে কামালপুর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কটি টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কের একাধিক স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। অনেক স্থানে রাস্তার মাটি সরে গিয়ে দেবে গেছে, ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডুমরাকান্দা-কামালপুর সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে আগে থেকেই খানাখন্দ ছিল। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদায় পরিণত হতো রাস্তাটি। তবে চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সড়কের অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে অনেক অংশে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, এই সড়কটি ডুমরাকান্দা, কামালপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করে উপজেলা সদর, স্কুল-কলেজ, বাজার ও বিভিন্ন কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বর্ষা মৌসুমে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে এই সড়কের ওপরই নির্ভর করতে হয়। কিন্তু রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। অনেক সময় ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল কাদায় আটকে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।
স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, প্রতিদিন সন্তানদের ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় রাস্তা এতটাই পিচ্ছিল হয়ে যায় যে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত রাস্তা সংস্কার করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, বরং কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত টেকসই সংস্কার কাজ শুরু করা জরুরি। অন্যথায় সামনের দিনগুলোতে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান