বাছির ইসলাম,কুলিয়ারচর উপজেলা প্রতিনিধি || কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সুতী ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সকালের কৃষকের হাটে প্রতিদিন ভোর থেকেই কাজের আশায় জড়ো হন শতাধিক দিনমজুর। কেউ মাটি কাটেন, কেউ ইট-বালু বহন করেন, আবার কেউ কৃষিকাজ কিংবা বিভিন্ন নির্মাণকাজে শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে দৈনিক মাত্র ৪০০ টাকা মজুরিতে পরিবার চালানো তাদের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্য ওঠার আগেই হাটে এসে জড়ো হন বিভিন্ন বয়সের শ্রমিকরা। কাজের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও সবাই কাজ পান না। যারা কাজ পান, তাদেরও সারাদিনের কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে মজুরি হিসেবে দেওয়া হয় মাত্র ৪০০ টাকা। অথচ চাল, ডাল, তেল, সবজি, মাছ, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই আয়ে সংসারের ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
হাটে কাজের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিক কালাম মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, "বর্তমান বাজারে ৪০০ টাকা দিয়ে একটি পরিবারের খরচ চালানো অসম্ভব। সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করার পর যে টাকা পাই, তা দিয়ে বাজারে গেলে কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই শেষ হয়ে যায়। অনেক দিন মাছ বা মাংস কিনে খাওয়ার সুযোগও হয় না।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের অনেকের ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। তাদের পড়াশোনা, চিকিৎসা, পোশাকসহ সংসারের সব খরচ এই অল্প আয় দিয়ে চালানো সম্ভব নয়। অভাবের কারণেই পেটের দায়ে আমরা প্রতিদিন কাজের আশায় এখানে এসে দাঁড়াই।"
আরেক শ্রমিক জানান, প্রতিদিন হাটে এলেও কাজের নিশ্চয়তা নেই। অনেক সময় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কাজ না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়। এতে পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, শ্রমিকদের পরিশ্রমের তুলনায় বর্তমান মজুরি অত্যন্ত কম। দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দিনমজুরদের মজুরি বৃদ্ধি করা জরুরি। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সরকারি সহায়তা আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
শ্রমিকদের দাবি, সরকার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি তাদের দুরবস্থার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন, তাহলে অন্তত ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে তাদের জীবনমান কিছুটা উন্নত হতে পারে।
সকালের কৃষকের হাটে প্রতিদিন ভোরে জড়ো হওয়া এসব শ্রমিকের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে কাজ পাওয়ার আকুতি, আর দিন শেষে পরিবারকে দু'মুঠো খাবার জোগানোর সংগ্রাম। তাদের এই নীরব দীর্ঘশ্বাস যেন বর্তমান সময়ে দেশের নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের বাস্তব চিত্রই তুলে ধরে।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান