রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হাইমচরে মাসিক উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে কৃতিত্বের জন্য গ্রাম পুলিশকে পুরস্কৃত হাইমচরে ৬ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীদের সঙ্গে এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের মতবিনিময় ধামইরহাট উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলামের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, নেতা-কর্মীদের মধ্যে আনন্দ রাঙ্গামাটির বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব চন্দনাইশে গাছবাড়ীয়া সার্বজনীন হরিমন্দিরে বস্ত্র বিতরণ, উপস্থিত পুলিশ সুপার হাইমচরের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে: এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক মানিকগঞ্জে যমুনা নদীতে অভিযান, ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ইলিশ জব্দ পাঁচবিবিতে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল, চ্যাম্পিয়ন রনি একাদশ মেলান্দহে ৮৩ পিস ইয়াবাসহ বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার, কারাগারে হরিরামপুরে বিদ্যুৎ সংযোগের ক্যাবল রাখা নিয়ে বিরোধ, মন্দির কমিটির সম্পাদককে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

বাম্পার ফলন, তবু দুশ্চিন্তা—শ্রমিক সংকটে লালপুরে পাট কাটায় ভোগান্তি

- / বার্তা পাঠানো হয়েছে
শনিবার, ১ অগাস্ট, ২০২৬
  • শনিবার, ১ অগাস্ট, ২০২৬

শাকিব আহম্মেদ ।। লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের লালপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হলেও তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো পাট কাটতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ফলে ভালো উৎপাদন হলেও কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর লালপুরে ৮ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। অনুকূল আবহাওয়া এবং উন্নত মানের বীজ ব্যবহারের কারণে ফলনও হয়েছে আশাব্যঞ্জক।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বাজারে ভালো মানের পাটের দাম প্রতি মণ ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। তবে সময়মতো পাট কাটতে না পারলে আঁশের মান নষ্ট হয়ে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরবাব ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল্লাহ ও সুমন জানান, মজুরি বাড়িয়েও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পাট কাটতে দেরি হচ্ছে এবং তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

চংধুপইল ইউনিয়নের কৃষক ফিরোজ আহমেদ বলেন, “জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি রয়েছে। কিন্তু সময়মতো পাট কাটতে না পারলে আঁশের মান নষ্ট হয়ে যাবে।”

দুড়দুড়িয়া এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে সহজেই কৃষি শ্রমিক পাওয়া গেলেও এখন অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাওয়ায় শ্রমিক সংকট তীব্র হয়েছে। একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন দুয়ারিয়া এলাকার কৃষক ইউনুস আলী ফরাজি। তিনি বলেন, সময়মতো পাট কাটতে না পারলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

পাট ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান বলেন, বাজারে পাটের দাম ভালো থাকলেও মান ঠিক না থাকলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন না। তাই দ্রুত পাট কেটে যথাসময়ে জাগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার বলেন, “এ বছর পাটের উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকদের পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত পাট কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

সব মিলিয়ে, বাম্পার ফলনের সুখবরের মাঝেও শ্রমিক সংকট লালপুরের পাটচাষিদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময়মতো পাট কাটা না গেলে ভালো উৎপাদনের সুফল থেকে বঞ্চিত হতে পারেন তারা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত II দৈনিক জনতার দেশকন্ঠ II আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ। জিমেইল : janatardeshkhantho@gmail.com
Theme Customized By BreakingNews