সরওয়ার কামাল ।। স্টাফ রিপোর্টার |
"জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রাঙ্গণে সচেতনতামূলক র্যালি, মতবিনিময় সভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান-এর আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়-এর বাস্তবায়নে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির শুরুতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালি বের হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক, নার্স, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
র্যালি শেষে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা নবজাতকের সুস্থ বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাতৃদুগ্ধের অপরিসীম গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, মায়ের শালদুধ ও বুকের দুধের কোনো বিকল্প নেই। শিশুর জন্মের পরপরই শালদুধ পান করানো নিশ্চিত করতে হবে। এটি নবজাতকের প্রথম টিকা হিসেবে কাজ করে এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়। তিনি বলেন, শিশুর জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধই যথেষ্ট। এ সময় অন্য কোনো খাবার বা এমনকি পানিও দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, নিয়মিত মাতৃদুগ্ধ পান শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং অপুষ্টির ঝুঁকি কমায়। অন্যদিকে মায়েদের ক্ষেত্রেও মাতৃদুগ্ধ পান করানো স্তন ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক। তাই গুঁড়ো দুধ বা কৌটাজাত বিকল্প শিশু খাদ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সৌনম বড়ুয়া, এমওডিসি ডা. নুরুল হায়দার এবং এমওসিএস ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী চট্টগ্রাম জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ সময় গর্ভবতী মা ও নবজাতকের অভিভাবকদের কাউন্সেলিং, লিফলেট বিতরণ এবং মাতৃদুগ্ধ পান বিষয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করা গেলে শিশুমৃত্যুর হার কমানো, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ ও মেধাবী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান