শাকিব আহম্মেদ ।। লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের লালপুর উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী বাগাতিপাড়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। দিন ও রাতজুড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর লালপুর জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৩ আগস্ট) দিনের পিক আওয়ারে লালপুর উপজেলা ও বাগাতিপাড়ার তিনটি ইউনিয়নে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ২৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ১০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে মূল সরবরাহ ছিল ৭ মেগাওয়াট এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের বিশেষ অনুরোধে অতিরিক্ত ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ফলে ওই সময়ে ১৩ মেগাওয়াট ঘাটতি সৃষ্টি হয়, যা মোট চাহিদার প্রায় ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
এর আগের দিন রোববার (২ আগস্ট) রাতের পিক আওয়ারেও চাহিদা ছিল ২৩ মেগাওয়াট। অতিরিক্ত ৩ মেগাওয়াটসহ মোট ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যায়। ফলে ১২ মেগাওয়াট বা প্রায় ৫২ শতাংশ বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দেয়।
এভাবে দিন ও রাত মিলিয়ে ২৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১০ থেকে ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় দফায় দফায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও অসুস্থ রোগীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। এছাড়া ক্ষুদ্র শিল্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বেকারি, সেচ কার্যক্রম, চিকিৎসাসেবা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে লালপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রেজাউল করিম বলেন, ঈশ্বরদী গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে সাময়িকভাবে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হলেও তা চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। গ্রিড থেকে বিদ্যুতের বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান