নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি: কায়েস আহমদ জয়
জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের পল্লী এলাকাগুলোতে বেড়েছে লোডশেডিং। চাহিদার তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় কোথাও কোথাও দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
এর মধ্যে নেত্রকোণা জেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টাই লোডশেডিং ছিল বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটেছে।
পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস, উপকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। এ বিষয়ে বুধবার পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২৪৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১২ হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট। এ সময় ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৩১৪ মেগাওয়াট। ভোর ৪টায় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৬৯ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ১৮ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৯৫১ মেগাওয়াট। রাত ১টায় লোডশেডিং বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ১৯৪ মেগাওয়াটে।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি গ্রাহককে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ সেবা দিয়ে থাকে। অর্থাৎ মোট গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশ এসব সমিতির আওতাধীন। উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশও তাদের আওতাধীন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদিত বিদ্যুতের বরাদ্দ অনুযায়ী গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। গত কয়েক দিনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর গড় চাহিদা ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। ফলে কোথাও কোথাও প্রতিদিন ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান আইজিপির কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জনরোষ বাড়ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও অফিসে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এতে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দেশের প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসে নিরাপত্তা জোরদারে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান