তারিখ: ১৪ আগস্ট ২০২৬
বরাবর
মহামান্য ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
বঙ্গভবন, ঢাকা।
ও
মাননীয় সংসদ সদস্য
মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, বীরবিক্রম
ভোলা-৩ আসন
জাতীয় সংসদ ভবন, ঢাকা।
বিষয়: ভোলা জেলায় বেপরোয়া বালু উত্তোলনের কারণে ভয়াবহ নদীভাঙন রোধ ও জনজীবন রক্ষায় জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন।
মহামান্য,
বিনীত সালাম ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। ভোলা জেলার সাধারণ নাগরিকদের পক্ষে ‘ভোলা জেলার শক্তি’ সংগঠন অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছে যে, ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন’-এর বিধান উপেক্ষা করে ভোলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও অন্যান্য নদী থেকে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মহামান্য, গত দুই বছরে ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, বাঘমারা, তেঁতুলিয়া ও তজুমদ্দিনের অসংখ্য বাড়িঘর, ফসলি জমি, মসজিদ ও মাদ্রাসা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে শত শত পরিবার নিঃস্ব ও উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ঠিকাদারদের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে পারছেন না। এক বছরে ৮৯ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের টেন্ডার নিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ড্রেজার ও বাল্কহেড দিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকার ভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ তাদের বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
মাননীয় রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় সংসদ সদস্য, আপনারা ভোলাবাসীর অভিভাবক। ভোলা সদরসহ মেঘনা ও বোরহানউদ্দিন-তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী মানুষ বর্তমানে নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ থাকলে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আপনাদের জরুরি হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন।
অতএব, ভোলার সকল বালুমহালে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করা এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আপনাদের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি। আপনাদের কার্যকর উদ্যোগই ভোলার লাখো মানুষের ভিটেমাটি ও জীবন-জীবিকা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নিবেদক
ভোলার সাধারণ জনগণের পক্ষে
‘ভোলা জেলার শক্তি’ সংগঠন
সংগঠক:
মহিবউল্যাহ খোকন
অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
##
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান