মোঃ মানিক মিয়া ।। স্টাফ রিপোর্টার
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে জাল দলিল সৃজন, সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে জমি দখলের অপচেষ্টা এবং বিরোধপূর্ণ জমি ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার পায়তারা করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এবং বিতর্কিত জমির বিপরীতে ব্যাংক ঋণ প্রদান প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে বক্তব্য দেন মোহাম্মদ হোসেন, আলমগীর হোসেন, জাকির হোসেনসহ অন্যান্য ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, সাবেক সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ভালুকা এলাকায় বিভিন্নভাবে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও দখলদারিত্বে জড়িত রয়েছেন। সম্প্রতি অন্যের মালিকানাধীন জমির জাল দলিল তৈরি করে সেই জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু কথিত জাল দলিল তৈরির মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নেই। ওই জমি দখলের জন্য সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শনেরও অভিযোগ রয়েছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, কথিত জাল ও বিতর্কিত কাগজপত্র ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট জমি ব্যাংকে বন্ধক রেখে বিপুল অঙ্কের ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে একদিকে ব্যাংক আর্থিক ঝুঁকিতে পড়তে পারে, অন্যদিকে প্রকৃত মালিকরা তাদের পৈতৃক সম্পত্তি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, জমির প্রকৃত মালিকানা ও দলিলপত্র নিয়ে বিরোধ থাকা অবস্থায় কোনোভাবেই ওই সম্পত্তির বিপরীতে ঋণ অনুমোদন বা বিতরণ করা উচিত নয়। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের দাবিগুলো হলো—
১. জাল দলিল বাতিল: কথিত জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি দলিল তদন্ত করে আইন অনুযায়ী বাতিলের ব্যবস্থা করতে হবে।
২. ঋণ প্রদান বন্ধ: বিতর্কিত ও কথিত জাল দলিলের ভিত্তিতে ব্যাংকে জমি বন্ধক রেখে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে।
৩. আইনি ব্যবস্থা: জমি দখলের অপচেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করে প্রমাণ সাপেক্ষে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. নিরাপত্তা নিশ্চিত: ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার ও সম্পত্তির নিরাপত্তা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে যদি কারও জমি দখলের চেষ্টা করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রশ্নের মুখে পড়ে।
তারা আরও বলেন, “আমরা কোনো প্রভাব বা চাপের কাছে নত হতে চাই না। আমাদের জমির মালিকানা ও অধিকার রক্ষায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, বিতর্কিত জমির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বা তাঁর পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান