সরওয়ার কামাল, স্টাফ রিপোর্টার |
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে মাদকবিরোধী র্যালি ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে লামা থানা পুলিশের আয়োজনে গুলিস্তান বাজারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কায়সার হামিদ, কুমারী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (আইসি) জামিল আহমেদ, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফসিউল আলম, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাকের হোসেন মজুমদার, মো. আবু বক্করসহ পুলিশ সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
র্যালিটি গুলিস্তান বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে মাদকবিরোধী বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন দেখা যায়।
পরে বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা মাদকের ভয়াবহতা ও এর ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন ধ্বংস করে না; এর নেতিবাচক প্রভাব পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপরও পড়ে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে পরিবার ও সমাজের সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। মাদক ব্যবসা, সরবরাহ ও সেবনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তারা।
তারা আরও বলেন, মাদক নির্মূলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক মূল্যবোধ জোরদার এবং তরুণদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা জরুরি। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক নেতারা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কায়সার হামিদ বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে লামা থানা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। মাদক একটি পরিবারকে ধ্বংস করার পাশাপাশি সমাজে নানা ধরনের অপরাধ ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে হলে পরিবার, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ী কিংবা মাদক সরবরাহকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নসহ লামা উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও পৌরসভাকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচির মাধ্যমে গুলিস্তান বাজার এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান