রিপন মিয়া, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ):
মানিকগঞ্জের সিংগাইর পৌর সদরের আঙ্গারিয়া মহল্লায় নিজ বাসার শয়নকক্ষ থেকে সেলিনা আক্তার (৪২) নামের এক স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ করা হলেও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত সেলিনা আক্তার দুই সন্তানের জননী। তিনি জেলার শিবালয় উপজেলার উলাইল ইউনিয়নের রুপসা ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্বামী মো. জাহাঙ্গীর আলম সিংগাইর গ্রীন স্ট্রিট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে সিংগাইর পৌরসভার আঙ্গারিয়া (বেপারীপাড়া) মহল্লায় নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
নিহতের বড় বোন রামেসা বেগম অভিযোগ করে বলেন, মোবাইল ফোনে বোনের অসুস্থতার খবর পেয়ে বাসায় গিয়ে তিনি দেখতে পান, তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম সেলিনার মরদেহ একটি ভ্যানগাড়িতে তোলার চেষ্টা করছেন। এ সময় জাহাঙ্গীর জানান, চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। রামেসার দাবি, তার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
নিহতের আরেক বোন আনিসা বেগম অভিযোগ করেন, সেলিনার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন। এ বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে নিহতের স্বামী জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক সফি উদ্দিন মহির সঙ্গে সেলিনার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। ঘটনার আগে বাসায় এসে টেলিফোনে ওই প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে অভিমান করে সেলিনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে তার দাবি।
এ বিষয়ে রুপসা ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফি উদ্দিন মহির সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
জাহাঙ্গীর আলমের মা রাশেদা বেগম বলেন, স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর সেলিনার সঙ্গে তার স্বামীর কথা-কাটাকাটি হয়। এর কিছুক্ষণ পর সেলিনা নিজ শয়নকক্ষে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন। পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে এমন কথা শুনেছেন, তবে বর্তমানে তা নেই।
সিংগাইর থানার এসআই রেজাউল করিম বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বুধবার (১৯ আগস্ট) জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হলেও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান