মোঃ মোস্তাকিন হোসেন, ধামইরহাট উপজেলা প্রতিনিধি (নওগাঁ):
নওগাঁর ধামইরহাটে সরকার নিবন্ধিত ‘ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’ (এসএফডিএফ) কার্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ ও গ্রাহকদের সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির ফিল্ড অফিসার আশিকুর রহমান ও ব্যবস্থাপক তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী কৃষকরা হয়রানি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন।
উপজেলার একাধিক প্রান্তিক কৃষকের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি থেকে ঋণ নিতে হলে কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হয়। ঘুষ না দিলে ঋণ পেতে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল মান্নান জানান, এর আগে তিনি ২ হাজার টাকা দিয়ে একটি ঋণ নিয়েছিলেন এবং নিয়মিত কিস্তির মাধ্যমে তা পরিশোধ করেন। পরে পুনরায় ঋণের জন্য আবেদন করলে তার কাছে ৫ হাজার টাকা ‘বকশিস’ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলে দাবি তার। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
অপর ভুক্তভোগী সদস্য হাসান অভিযোগ করেন, নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধের পাশাপাশি তিনি সঞ্চয় হিসেবে ১০ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ফিল্ড অফিসার আশিকুর রহমান ও ব্যবস্থাপক তরিকুল ইসলাম তাকে জানান, তার নামে কোনো সঞ্চয়ের টাকা জমা হয়নি। এতে সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ফিল্ড অফিসার আশিকুর রহমান তাকে জানিয়েছেন, ১০ হাজার টাকা দিলে তবেই ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ঋণ ছাড় করা হবে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘুষ ছাড়া এ কার্যালয়ে কোনো কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তারা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ধামইরহাট উপজেলা ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক তরিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তবে কোনো ফিল্ড অফিসার যদি গ্রাহকদের সঙ্গে এ ধরনের অনৈতিক লেনদেন করে থাকে এবং তার সত্যতা বা তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক উন্নয়নে কাজ করা এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঘুষ ও সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান