আব্দুল কাদের ।। জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের কালাইয়ে মো. মাসুদুর রহমান (৩৩) নামের এক সেনাসদস্যের দায়ের করা ১০৭/১১৭ ধারার প্রসিডিং ড্র মামলা নিয়ে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন মামলার আসামিরা। তাদের দাবি, মামলাটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিতভাবে দায়ের করা হয়েছে।
মামলার নথি ও আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলায় খাইরুল ইসলাম, আব্দুল কাদের, আব্দুল করিম, মাহী আলম, রাজিয়া সুলতানা, ছাবেরা বেওয়া, আয়েশা বিবি ও শাপলা খাতুনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দায়ের করা হয় বলে জানা গেছে।
আসামিদের দাবি, বাদী গত ১৪ আগস্ট চাকরি থেকে ছুটিতে এসে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মামলা দায়ের করেছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বাদীপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
৮ নম্বর আসামি শাপলা খাতুনের দাবি, গত ১৩ আগস্ট তার মা অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বামীর অনুমতি নিয়ে বিকেলে বাবার বাড়িতে যান। পরে ১৭ আগস্ট মেয়ের স্কুলের কারণে স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন। ফলে মামলায় উল্লেখ করা ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে দাবি করেন।
২ নম্বর আসামি আব্দুল কাদেরের দাবি, তিনি অন্য জেলায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং ঘটনার সময় কর্মস্থলে ছিলেন। তার কর্মস্থলের ম্যানেজার, হিসাবরক্ষক ও অন্যান্য কর্মীদের বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি প্রমাণ করা সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন।
৩ ও ৭ নম্বর আসামির বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা নিজ বাড়িতে কর্মচারীদের নিয়ে মিষ্টি ও দই তৈরির ব্যবসায় নিয়োজিত ছিলেন। ৬ নম্বর আসামি ছাবেরা বেওয়া বিধবা এবং সংসারের কাজে ব্যস্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া ১ নম্বর আসামি খাইরুল ইসলাম অসুস্থ অবস্থায় ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন বলে তার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ৪ নম্বর আসামি মাহী আলম এইচএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় পড়াশোনায় ব্যস্ত ছিলেন এবং ৫ নম্বর আসামি রাজিয়া সুলতানা অসুস্থ হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে এক মাসের বেড রেস্টে রয়েছেন বলে আসামিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
আসামিদের আরও দাবি, ঘটনার দিন এলাকায় কোনো মারামারি, গণ্ডগোল বা বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাও বিষয়টি সম্পর্কে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বলে তারা জানান।
মামলার আসামি আব্দুল কাদের অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ঘটনার সময় আমরা কেউ সেখানে ছিলাম না। তারপরও আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানাই।”
আসামিদের পক্ষ থেকে মামলায় সাক্ষী হিসেবে যাদের রাখা হয়েছে, তাদের নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মামলার বাদী মো. মাসুদুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
মামলার প্রকৃত ঘটনা কী এবং অভিযোগগুলো কতটা সত্য—তা তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান