নওগাঁর ধামইরহাটে মাত্র ২০০ টাকায় মাছ ধরার জাল বন্ধক রাখাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে মোস্তাকিন (২০) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ধামইরহাট থানা পুলিশ।
বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার সাহাপুর আঙ্গুরাত কলোনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত ওই পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, মামলা রুজুর পরপরই কয়েকটি দল যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, নিহত মোস্তাকিনের সঙ্গে অভিযুক্তদের ২০০ টাকার বিনিময়ে মাছ ধরার একটি জাল বন্ধক রাখা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ নিয়ে প্রথমে কথাকাটাকাটি এবং পরে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে মোস্তাকিনের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মোস্তাকিনকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য ২০০ টাকার একটি জাল বন্ধক রাখাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে একজন তরুণের প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।
মোস্তাকিনের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে ধামইরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা রুজুর পর পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে।
পুলিশের অভিযানে এজাহারনামীয় পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মামলা দায়েরের পর পুলিশের একাধিক দল অভিযান পরিচালনা করে মামলার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
হত্যাকাণ্ডের পর সাহাপুর আঙ্গুরাত কলোনি এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের ভাষ্য, সামান্য অর্থের লেনদেন বা কোনো তুচ্ছ বিরোধ যেন ভবিষ্যতে এমন প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ না নেয়, সেজন্য স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান