জয়পুরহাট জেলা পরিষদের তহবিল থেকে খঞ্জনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী মোরসালিন মিনহাজকে নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় বই না থাকায় শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যেই জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এ সহায়তা দেওয়া হয়।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জয়পুরহাট জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থী মোরসালিন মিনহাজের হাতে নতুন পাঠ্যবইগুলো তুলে দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মাসুদ রানা প্রধান। এ সময় জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও খঞ্জনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
মোরসালিন মিনহাজ জয়পুরহাট সদর উপজেলার খঞ্জনপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও রাজু বেগম দম্পতির ছেলে। সে খঞ্জনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই সংগ্রহে সমস্যার সৃষ্টি হলে বিষয়টি জেলা পরিষদের নজরে আসে। পরে শিক্ষার্থীর পড়াশোনার বিষয়টি বিবেচনা করে জেলা পরিষদের তহবিল থেকে তাকে নতুন বই দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বই হস্তান্তরের সময় খঞ্জনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মীর হোসেন জেলা পরিষদের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো শুধু তাদের পড়াশোনার সুযোগই নিশ্চিত করে না, বরং শিক্ষাজীবনে তাদের আত্মবিশ্বাসও বাড়ায়। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এ ধরনের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, অনেক সময় পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় বই-খাতা ও শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ করতে পারে না। এতে তাদের নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যদি এ ধরনের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে, তাহলে ঝরে পড়ার হার কমানো সম্ভব হবে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মাসুদ রানা প্রধান বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে এবং সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। কোনো শিক্ষার্থী যেন শুধু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনের সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া সমাজের দায়িত্ব। জেলা পরিষদের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
জেলা পরিষদের তহবিল থেকে নতুন বই পেয়ে মোরসালিন মিনহাজও আনন্দ প্রকাশ করে। প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই পাওয়ায় তার পড়াশোনায় সুবিধা হবে এবং নিয়মিতভাবে ক্লাস ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করে সে।
স্থানীয়রা জানান, আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করা হলে তারা পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে পারে। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও বিত্তবান ব্যক্তিদেরও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে বলে তারা মনে করেন।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান