খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিনামূল্যে ধাত্রীবিদ্যা/নার্সিং ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন। পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দীঘিনালা জোনের আওতাধীন দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বরাদম, বাবুছড়া ও জারুলছড়ি আর্মি ক্যাম্পে একযোগে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। দীঘিনালা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসির নির্দেশনায় উপজেলা থেকে বাছাই করা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ২০ জন নারীকে ধাত্রীবিদ্যা/নার্সিং এবং ৪৭ জন নারী-পুরুষকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর একটি অংশ নানা কারণে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে দুর্গমতা অনেক সময় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সহায়ক দক্ষ জনবল তৈরির উদ্দেশ্যে ধাত্রীবিদ্যা/নার্সিং প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্বাচিত নারীদের গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের প্রাথমিক পরিচর্যা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে। দুর্গম এলাকায় প্রশিক্ষিত নারী তৈরি হলে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
অন্যদিকে, তরুণ-তরুণীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কম্পিউটারের মৌলিক ব্যবহার, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও বিভিন্ন কাজে কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য শুধু প্রশিক্ষণ প্রদান নয়; বরং দুর্গম পাহাড়ি এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে গড়ে তুলে তাদের আত্মনির্ভরশীলতার পথে এগিয়ে নেওয়া। বিশেষ করে নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে তাদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কয়েকজন সুবিধাভোগী জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসের কারণে তারা অনেক সময় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। নিজেদের এলাকায় বিনামূল্যে এমন প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়ায় তারা আনন্দিত। প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
তারা বলেন, অর্থের অভাবে অনেকের পক্ষেই বাইরে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া সম্ভব হয় না। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করায় তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আরও বেশি মানুষকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনারও দাবি জানান তারা।
স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রশিক্ষিত নারী স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি হলে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় তরুণ প্রজন্ম আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে আরও সহজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের এ উদ্যোগকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা তৈরিতে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা আশা করছেন, এ ধরনের মানবিক ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান