
মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৪৮টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর। পরে জব্দ করা এসব নিষিদ্ধ জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের হরেন্দা গ্রাম এবং বালিঘাটা ইউনিয়নের বীরনগর গ্রামে পৃথকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে বিভিন্ন স্থান থেকে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত ৪৮টি জাল স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ে দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মৎস্য সংরক্ষণ আইন-১৯৫০ এবং মৎস্য ও পশুখাদ্য আইন-২০১০-এর আওতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন এসব অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোছাঃ মাহমুদা খাতুন পপি বলেন, মাছের প্রজনন মৌসুমে এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়েছে। এ ধরনের জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, চায়না দুয়ারী জালের মতো নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের কারণে শুধু মাছ নয়, ছোট মাছের পোনা, জলজ পোকামাকড়সহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীও ধ্বংস হচ্ছে। ফলে মৎস্যসম্পদের স্বাভাবিক প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হলে এর ব্যবহার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। জনস্বার্থে প্রশাসনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রাখারও দাবি জানিয়েছেন তারা।