জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহযোগিতায় চাঁদপুরের হাইমচরে সমন্বিত গ্রামীণ পয়ঃবর্জ্য ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বিষয়ক পাইলট কার্যক্রম এবং বাজার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় হাইমচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নূর হোসেন সভাপতিত্ব করেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; এটি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। বাজারগুলোতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এসব বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলে রাখলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে।
তিনি বলেন, বর্জ্যকে সমস্যা হিসেবে না দেখে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পদে পরিণত করার চিন্তা করতে হবে। জৈব ও অজৈব বর্জ্য আলাদাভাবে সংগ্রহ, নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ এবং নিয়মিত অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে বাজারের ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে প্রশাসন, ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব হাইমচর গড়ে তোলা সম্ভব। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
কর্মশালার সভাপতির বক্তব্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নূর হোসেন বলেন, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অপরিকল্পিতভাবে পয়ঃবর্জ্য ও কঠিন বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
তিনি বলেন, বর্জ্য উৎপাদনের স্থান থেকেই তা পৃথকীকরণ, নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ এবং যথাযথভাবে অপসারণের বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাজার ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মোহাম্মদ নূর হোসেন আরও বলেন, পাইলট কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে একটি কার্যকর ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাজার ব্যবসায়ী, দোকান মালিক, স্থানীয় প্রশাসন এবং সুশীল সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতা ছাড়া এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই বাজার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান তিনি।
কর্মশালায় আলগীবাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম কোতওয়ালসহ বিভিন্ন দোকান মালিক, ব্যবসায়ী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় সমন্বিত গ্রামীণ পয়ঃবর্জ্য ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বাজারের বর্জ্য সুষ্ঠুভাবে সংগ্রহ ও অপসারণ, পরিবেশ দূষণ রোধ এবং বাজার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, নিয়মতান্ত্রিক ও টেকসই করার বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা স্থানীয় পর্যায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান