
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে গ্রামীণ শক্তি এনজিওর পরিচালক মোঃ মাসুদ রানা ইন্তা ও তার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের পাওনা টাকা আদায় এবং অভিযোগে উল্লেখিত সম্পত্তি রেজিস্ট্রি ও হস্তান্তর বন্ধের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে হরিরামপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্থ পাওনার দাবিদার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন দাবি সংবলিত বক্তব্য দেন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর বন্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গ্রামীণ শক্তি এনজিওর পরিচালক মোঃ মাসুদ রানা ইন্তার নামে থাকা সম্পত্তি হস্তান্তর বন্ধ করতে হবে এবং ভুক্তভোগীদের পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে তার স্ত্রী লিলি বেগমের মাধ্যমে সম্পত্তি বিক্রয়ের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন, সেটিও বন্ধ করার আহ্বান জানান তারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, মোট ৩২ জনের কাছে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ সংক্রান্ত মামলা চলমান থাকা অবস্থায় হরিরামপুর উপজেলার আইলকুন্ডি মৌজায় মোঃ মাসুদ রানা ইন্তার নামে রেকর্ডভুক্ত প্রায় ৯০১ দশমিক ৫ শতাংশ সম্পত্তি তার স্ত্রী লিলি বেগমের মাধ্যমে বিক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তাদের আরও দাবি, চলতি বছরের আগস্ট মাসে ওই সম্পত্তি নিয়ে রেজিস্ট্রি বায়না করা হয়েছে। এতে ভুক্তভোগীদের পাওনা টাকা আদায়ের বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা বলেন, তাদের পাওনা অর্থ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বিক্রি, রেজিস্ট্রি বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তরের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আইনগত কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এ সময় তারা মোঃ মাসুদ রানা ইন্তার নামে রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি বিক্রি ও হস্তান্তর বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের পাওনাসংক্রান্ত ১৭৬১ নম্বর দলিল ও বায়না দলিল যাচাই করারও দাবি করেন তারা।
ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, আদালতের নির্দেশে কোনো চেক জব্দ বা সম্পত্তি হস্তান্তরের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা যথাযথভাবে কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে পাওনাদারদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বালিরটেক ফেরিঘাট এলাকায় ‘গ্রামীণ সংস্থা’ ও ‘গ্রামীণ শক্তি’ নামে দুটি এনজিও ঋণ প্রদান এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করে।
সূত্র আরও জানায়, ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট প্রতারণার একটি মামলায় এনজিওটির চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদ রানা ইন্তা (৪২) ও তার স্ত্রী লিলি বেগমকে (৩৫) সিআইডি গ্রেপ্তার করে।
গ্রামীণ শক্তি এনজিওর পরিচালক মোঃ মাসুদ রানা ইন্তার বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম শানবান্দা এলাকায়। বর্তমানে তিনি ও তার স্ত্রী আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে, গ্রামীণ শক্তি এনজিওর পরিচালক মোঃ মাসুদ রানা ইন্তা ও তার স্ত্রী লিলি বেগমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর এখন নজর রয়েছে ভুক্তভোগীদের।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান