মানিকগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি, ব্যবহৃত তেল পুনরায় ব্যবহার এবং খাদ্যপণ্য সংরক্ষণে অনিয়মের অভিযোগে দুটি মিষ্টির প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মানিকগঞ্জ শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকান ও কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেলের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানগুলোর খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন।
অভিযানকালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি ও খাদ্যপণ্য সংরক্ষণসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় সুইট হ্যাভেনকে ২০ হাজার টাকা এবং মদিনা মিষ্টির দোকানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিষ্ঠান দুটির কারখানায় মিষ্টি তৈরির পরিবেশ ছিল অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর। খাদ্য তৈরির সময় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করার পাশাপাশি খালি গায়ে মিষ্টি তৈরির বিষয়টিও নজরে আসে। এছাড়া একবার ব্যবহার করা তেল পুনরায় ব্যবহারের মতো অনিয়মও পাওয়া যায়।
এ সময় খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনাতেও অনিয়ম দেখতে পান কর্মকর্তারা। মিষ্টি তৈরির উপকরণ ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের সঙ্গে একই ফ্রিজে মাছ-মাংসসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। এতে খাদ্যপণ্যে জীবাণু সংক্রমণ ও দূষণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল বলেন, খাদ্যপণ্য তৈরির ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রতিটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
তিনি বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি, ব্যবহৃত তেল পুনরায় ব্যবহার এবং খাদ্য সংরক্ষণে অনিয়মের কারণে সুইট হ্যাভেনকে ২০ হাজার টাকা ও মদিনা মিষ্টির দোকানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য প্রতিষ্ঠান দুটিকে সতর্ক করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক ও কর্মচারীদের খাদ্য উৎপাদন, প্রস্তুত ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন কোনো অনিয়ম পুনরায় পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে আরও সচেতন হবে এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান