
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পুলিশের চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে ২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি সচল পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৩ রাউন্ড গুলিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে লোহাগাড়া থানাধীন চুনতী রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে পরিচালিত চেকপোস্টে একটি পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে এসব মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের নির্দেশনায় মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত চেকপোস্ট ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে লোহাগাড়ার চুনতী রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল।
এ সময় চট্টগ্রাম মেট্রো-ন-১২-০৬৩৪ নম্বরের একটি Foton পিকআপ পুলিশের চেকপোস্টে থামানো হয়। পরে গাড়িটিতে তল্লাশি চালানোর সময় আটক ব্যক্তিদের দেখানো মতে চালকের সিটের পেছনে থাকা একটি পকেটে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা সাদা পলিথিনে মোড়ানো একটি পুটলা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা পুটলাটি খুলে এর ভেতর থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ৭.৬৫ মিমি ‘Made in USA’ খোদাইকৃত একটি সচল পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে গ্রেফতার দুজন হলেন—মো. তারেকুল ইসলাম (২৬), পিতা মো. আবুল কালাম এবং মো. রাশেদুল ইসলাম প্রকাশ রুবেল (৩৮), পিতা আহম্মেদ আলী। তাদের বাড়ি কক্সবাজার সদর থানাধীন খুরুসকুল ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দুজন কক্সবাজারের কুরুশকুল এলাকা থেকে চট্টগ্রাম নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের কাছে তারা দাবি করেছেন, একই এলাকার মামুন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ইয়াবা ও আগ্নেয়াস্ত্র পরিবহন করছিলেন তারা।
পুলিশ আরও জানায়, ইয়াবা ও আগ্নেয়াস্ত্র গ্রহণের উদ্দেশ্যে মামুন ইতোমধ্যে বাসযোগে চট্টগ্রাম শহরের দিকে চলে যায়। তাকে গ্রেফতারের পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিয়মিত চেকপোস্ট, যানবাহনে তল্লাশি এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এ অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে।