মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ বাজারে একটি মিষ্টির দোকানে জিলাপি তৈরির সময় সরিষার তেলের পরিবর্তে রং, হাইড্রোজসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ‘মামা ভাগিনা হোটেল অ্যান্ড সুইটস’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানে জিলাপি তৈরিতে এমন উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাফরগঞ্জ বাজারের ব্যস্ততম এলাকায় অবস্থিত ‘মামা ভাগিনা হোটেল অ্যান্ড সুইটস’ থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষ জিলাপিসহ নানা ধরনের মিষ্টান্ন কিনে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, জিলাপি ভাজার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক খাদ্য উপকরণের পরিবর্তে রং ও হাইড্রোজসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে জিলাপি দেখতে আকর্ষণীয় ও দীর্ঘসময় তাজা রাখার চেষ্টা করা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতার অভিযোগ, জিলাপির রং ও গন্ধ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহ ছিল। বিশেষ করে জিলাপি অতিরিক্ত উজ্জ্বল রঙের হওয়া এবং স্বাভাবিকের তুলনায় ভিন্ন ধরনের গন্ধ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বাজারের অনেকের মধ্যে আলোচনা চলছিল। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নমুনা পরীক্ষা বা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ প্রতিদিন এসব মিষ্টি ও জিলাপি খেয়ে থাকেন। ফলে খাদ্য তৈরিতে অননুমোদিত বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দোকানটির খাবারের মান ও ব্যবহৃত উপকরণ পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে খাবারে কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে গেলে ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’-এর সাংবাদিক মো. বাদশা মিয়াকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে দোকানের প্রোপ্রাইটর সঞ্জয় দত্ত ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিক বাদশা মিয়া দোকানটিতে গিয়ে জিলাপি তৈরির প্রক্রিয়া ও ব্যবহৃত উপকরণ সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনকে সেখানে জড়ো করে মব সৃষ্টি এবং সাংবাদিককে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সাংবাদিকের দাবি, তিনি কোনো ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি না করে শুধুমাত্র অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু তথ্য সংগ্রহের সময় তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. বাদশা মিয়া বলেন, “আমি শুধু সত্য তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম। তারা আমার ওপর হামলার চেষ্টা করে এবং আমার জান-মালের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে দেয়।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক হিসেবে কোনো অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া তার পেশাগত দায়িত্বের অংশ। কিন্তু এভাবে সাংবাদিককে ভয়ভীতি দেখানো বা তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এ বিষয়ে ‘মামা ভাগিনা হোটেল অ্যান্ড সুইটস’-এর প্রোপ্রাইটর সঞ্জয় দত্তের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে খাবারে কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগ এবং সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য এ প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট দোকান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, খাবারে ক্ষতিকর কোনো উপাদান ব্যবহারের অভিযোগ থাকলে সেটি শুধু একটি দোকানের বিষয় নয়; এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয় জড়িত।
এলাকাবাসী অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। একই সঙ্গে দোকানের খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের বাধা, ভয়ভীতি বা হামলার পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চান স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহল।
খাদ্যে ভেজাল বা ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের অভিযোগ এবং সাংবাদিককে তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়ার মতো দুটি গুরুতর বিষয় একই ঘটনায় সামনে আসায় বিষয়টি এখন স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান