জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে সড়কের পাশের সরকারি গাছ অবৈধভাবে কাটার দায়ে তিনজনকে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও এক দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের লাল ব্রিজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এ দণ্ড দেওয়া হয়। পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাশফিয়া তাসরিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের এ সাজা দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর গ্রামের লাল ব্রিজ এলাকায় সড়কের পাশের সরকারি গাছ অবৈধভাবে কাটার অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সরকারি সম্পদ ক্ষতিসাধনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ১১ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শুনানি শেষে প্রত্যেককে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। নির্ধারিত অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে অতিরিক্ত এক দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালত জানায়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—রামনগর (আয়মারসুলপুর) গ্রামের মৃত শফির উদ্দিনের ছেলে মো. আলম (৫০), ছোটমানিক গ্রামের মৃত নবীন উদ্দিনের ছেলে মো. আমিনুল ইসলাম (৫২) এবং রামনগর গ্রামের হবিবরের ছেলে আব্দুল মতিন।
অভিযান চলাকালে সরকারি গাছ কাটার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সরকারি সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাশফিয়া তাসরিন বলেন, সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে সরকারি গাছ কিংবা অন্য কোনো সরকারি সম্পদ অবৈধভাবে দখল বা ক্ষতিসাধনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি সম্পদ রক্ষায় স্থানীয়দের সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি গাছ বা সম্পদ অবৈধভাবে কাটা, দখল কিংবা ক্ষতিসাধনের ঘটনা চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান