
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে হেরোইন সেবনের অপরাধে মো. আশিক (২৩) নামে এক যুবককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর দেড়টার দিকে সাটুরিয়া উপজেলার সাটুরিয়া ইউনিয়নের শেখড়ীনগর (মধ্যপাড়া) গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আশিক ওই গ্রামের বাসিন্দা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ জেলা কার্যালয়, মানিকগঞ্জের উপপরিদর্শক মোরশেদ আলমের দেওয়া সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শেখড়ীনগর (মধ্যপাড়া) গ্রামের একটি বসতবাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের খবর পেয়ে সাটুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
পরে ঘটনাস্থলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও দণ্ডপ্রাপ্ত যুবকের মা রেবেকা বেগমের (৫০) বক্তব্য নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করেন।
অভিযানকালে মো. আশিকের কাছ থেকে হেরোইন সেবনের সরঞ্জাম হিসেবে একটি ম্যাচলাইট, ১০ টাকার মোড়ানো একটি নোট, এক পিস রাংতা এবং একটি বোতলের ক্যাপ জব্দ করা হয়। এসব সরঞ্জাম উদ্ধারের পর বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
পরে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ১৬ অনুযায়ী মো. আশিককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০০ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশের পর দণ্ডপ্রাপ্ত যুবকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক সেবন ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও জানানো হয়েছে।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এবং সাটুরিয়া থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, সাটুরিয়া উপজেলাকে মাদকমুক্ত রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকসেবন ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পরিবার ও সমাজের সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।