বান্দরবানের লামা উপজেলার ৩ নম্বর ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে দরিদ্র শিশুদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ এবং উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নামমাত্র কয়েকজন শিশুর মাঝে সামান্য স্কুল ব্যাগ, জ্যামিতি বক্স, খাতা ও কলম বিতরণ করে প্রকল্পের ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আরও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লামা উপজেলা পরিষদের গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখের রেজুলেশন অনুযায়ী উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের দ্বিতীয় কিস্তির বরাদ্দের আওতায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে মোট সাতটি প্রকল্প নেওয়া হয়। এর মধ্যে ‘ইউনিয়নের প্রথম শ্রেণির দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ, মোজা ও জুতা বিতরণ’ প্রকল্পে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হোসেন মামুন বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে তার ওয়ার্ডের চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণের কথা থাকলেও প্রকল্পের তালিকার সঙ্গে বিতরণ করা সামগ্রীর কোনো মিল নেই বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে দ্বিতীয় কিস্তির আওতায় অবকাঠামো ও সেচ খাতে মোট ১৭ লাখ ৫২ হাজার ৯০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প নিয়েও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে হারগাজা থাঙ্কুই পাড়া মেইন রোড থেকে মংবাচিংয়ের বাড়ি পর্যন্ত ফ্ল্যাট সলিংকরণে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, রাংগা ঝিরি আর্মি রাসেলের বাড়ি থেকে পূর্ব পাড়া যাতায়াতের রাস্তা এইচবিবি করণে ৩ লাখ টাকা, পশ্চিম হায়দারনাশী রফিকের বাড়ি থেকে সাহাব উদ্দিন মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত ড্রেনসহ রাস্তা এইচবিবি করণে ৩ লাখ টাকা, ইয়াংছা কাঁঠালছড়ায় নুরুচ্ছফা সর্দার পাড়া যাতায়াতের রাস্তা এইচবিবি করণে ৩ লাখ টাকা, হিমছড়ি মনুর বাড়ি থেকে মসজিদের যাতায়াতের রাস্তায় ফ্ল্যাট সলিংকরণে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সে আইপিএসসহ সোলার স্থাপন ও কটেজ রংকরণে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৯০০ টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন এবং সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বরাদ্দের অর্থ ভাগ-বাটোয়ারার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও লোকদেখানো সামান্য কাজ করে প্রকল্পের পুরো অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বলেন, প্রকল্পগুলোর বিষয়ে তারা তেমন কিছু জানেন না। সাংবাদিকদের লেখনির মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, ইউপি সচিব পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের একটি ৩ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ ২ লাখ ১০ হাজার টাকার মধ্যে দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এতে বাকি ৯০ হাজার টাকা কোথায় যাবে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. রুহুল আমিন খন্দকার বলেন, দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা সামগ্রী এখনো বিতরণ করা হয়নি। বর্ষাকালে যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের তালিকার কাজও এখনো শেষ করা সম্ভব হয়নি।
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ প্রকল্পটি এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে এ বিষয়ে সভা হয়েছে। শিগগিরই শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং অন্যান্য প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
এদিকে স্থানীয় অধিবাসী ও সচেতন নাগরিকরা অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর বাস্তব অগ্রগতি, বরাদ্দের অর্থের ব্যবহার এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত শিক্ষা সামগ্রী বিতরণের বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান