ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে আটক হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরেছেন দুই পুরুষ ও এক নারীসহ তিন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে দুজন প্রায় ৩৩ মাস এবং একজন ২৮ মাস ভারতীয় কারাগারে সাজা ভোগ করেছেন বলে বিজিবি জানিয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের সমন্বয়ে মেইন পিলার-১০০৯-এর কাছে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ সাজা শেষে মুক্তি পাওয়া তিন বাংলাদেশিকে বিজিবির সোনাহাট বিওপির সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে।
পরে বিজিবি সদস্যরা তাদের ভূরুঙ্গামারী থানায় সোপর্দ করেন। ফেরত আসা তিনজন হলেন—কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানার সোভারকুটি গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মো. আব্দুল জলিল (২৯), একই গ্রামের মো. হাফেজ উদ্দিনের ছেলে মো. মোজাফফর হোসেন (২২) এবং ঢাকার যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগ এলাকার মৃত নুর আহম্মেদের মেয়ে মোছা. শারমীন বেগম (২৫)।
বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল জলিল ও মোজাফফর হোসেন ৩৩ মাস এবং শারমীন বেগম ২৮ মাস ভারতীয় কারাগারে সাজা ভোগ করেছেন। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর ভারতের আসাম পুলিশ তাদের আটক করে। পরে আদালতের মাধ্যমে সাজা শেষে তারা কারাগার থেকে মুক্তি পান এবং নিয়মিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিএসএফ তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
ভূরুঙ্গামারী থানায় জিডি নং-৮৪৬, তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মাধ্যমে তিনজনকে পুলিশের জিম্মায় নেওয়া হয়। পরে তাদের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়।
পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই শেষে আব্দুল জলিলকে তার চাচা মোহাম্মদ আলী, মোজাফফর হোসেনকে তার বড় ভাই মো. রুহুল আমিন এবং শারমীন বেগমকে তার দেবর ইমন আহমেদের জিম্মায় দেওয়া হয়।
দেশে ফিরে মোজাফফর হোসেন জানান, তিনি ও আব্দুল জলিল এলাকায় নদীতে মাছ ধরার সময় অসাবধানতাবশত ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করেন। কুয়াশার কারণে সীমান্তের অবস্থান বুঝতে না পারায় তারা ভুল করে সীমান্ত অতিক্রম করেন বলে জানান তিনি। পরে বিএসএফ তাদের আটক করে।
মোজাফফর হোসেন বলেন, বিএসএফ আটকের পর তাদের সঙ্গে মারধর করা হয়নি। দীর্ঘ সময় ভারতে কারাগারে থাকার পর দেশে ফিরতে পেরে তিনি আনন্দিত। দেশে ফেরার পর পরিবারের সদস্যদের কাছে যাওয়ার ব্যস্ততার কারণে এ বিষয়ে তিনি আর বিস্তারিত কথা বলতে পারেননি।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, সোনাহাট বিওপির বিজিবি সদস্যরা তিনজনকে থানায় নিয়ে আসেন। পরে তাদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই শেষে পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে তাদের নিয়ে গেছেন।
দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরে পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পেরে স্বজনদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে বলে জানা গেছে।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান