কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ মোকাবিলায় জনসচেতনতা সৃষ্টি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশকনিধন কর্মসূচি পালন করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদল।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরের নগুয়া এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশকনিধন ওষুধ ছিটিয়ে সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থলগুলোতে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোশতাক আহমেদ শাহীন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে শুধু মশকনিধন কার্যক্রম নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখাও অত্যন্ত জরুরি।
মোশতাক আহমেদ শাহীন বলেন, “ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে আমরা জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করছি। একই সঙ্গে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ও মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশকনিধন ওষুধ ছিটানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্দেশনা অনুযায়ী ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সারাদেশে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জেও ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সচেতনতামূলক লিফলেটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, ফুলের টব ও বিভিন্ন পাত্রের পানি নিয়মিত পরিবর্তন করা, পানি সংরক্ষণের পাত্র ঢেকে রাখা এবং মশারি ও মশা নিরোধক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া পুরোনো টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র, নারিকেলের খোসা, ভাঙা পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো অপসারণের আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া বাইরে বের হলে শরীরের অধিকাংশ অংশ ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরা এবং হঠাৎ জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা কিংবা শরীরব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫২ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে এটিকে চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের সংখ্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের পক্ষ থেকেও ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান