গাড়ি চাপা দিয়ে ২৪ বছর বয়সী এক যুবকের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার ৪৮ ঘণ্টাও পার হয়নি। অথচ এরই মধ্যে আইনি বিচার প্রক্রিয়াকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাত্র ৯ লাখ টাকায় হত্যাকাণ্ডটির রফা-দফা করার আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। বারিধারার ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বিশ্রামরত অসহায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানের মৃত্যুর ঘটনাটি এখন শুধুই একটি আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে পরিণত হতে চলেছে।
গত কয়েকদিন আগে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত হন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত গতি ও বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে ফুটপাতে উঠে যায় এক ধনীর দুলালের গাড়ি। গাড়ির চাপায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ফুটপাতে থাকা মেহেদী। কিন্তু ঘটনার পরপরই আইনি ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করে একশ্রেণীর প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও ঘাতক পক্ষের লোকজন নিহত মেহেদীর পরিবারকে মাত্র ৯ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটমাট করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এ ধরনের ঘটনা সমাজে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যার পর যদি এভাবে কেবল অর্থের বিনিময়ে দায়মুক্তি মেলে, তবে দেশে আইন-কানুন এবং আদালতের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? টাকার জোরে আদালত ও আইনকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার এই প্রবণতা অপরাধীদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়; এটি একটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড। নিহত নাগরিকের পক্ষে রাষ্ট্রের সরাসরি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করা উচিত। কারণ, নিহতের পরিবার কোনো সমঝোতা বা আপসে বাধ্য হলেও রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার নাগরিকের হত্যার বিচার নিশ্চিত করা। রাষ্ট্র বাদী হয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এসব বখাটে ও উশৃঙ্খল ধনীর দুলালদের কখনো বিচার ও জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড় করানো সম্ভব হবে না।
যদি বিচারব্যবস্থায় এই ধরনের অনিয়ম ও টাকার খেলা চলতে থাকে, তবে মেহেদীর মতো মেহনতী ও অসহায় মানুষরা এভাবেই প্রতিনিয়ত সড়কে পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারাবে। আর অপরাধীরা সামান্য কিছু অর্থ—যা তাদের কাছে একটি আন্তর্জাতিক বিজনেস ক্লাস টিকেটের মূল্যের চেয়ে বেশি কিছু নয়—তা দিয়েই একটি তাজা প্রাণ কেড়ে নেওয়ার দায় থেকে সহজে মুক্তি পেয়ে যাবে।
সুশাসন ও ন্যায়ের স্বার্থে এই ঘটনায় টাকার বিনিময়ে সমঝোতার চেষ্টা বন্ধ করে অবিলম্বে ঘাতক চালককে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান