দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে উপজেলার একমাত্র স্লুইচ গেট। গুরুত্বপূর্ণ এই জলনিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কয়েকটি গ্রামের কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকলেও স্লুইচ গেটটি সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪ নম্বর খামারপাড়া ইউনিয়নের জোয়ার কালিরবাজারের কাছে অবস্থিত এই স্লুইচ গেটটি ব্রিটিশ বা পাকিস্তান আমলে নির্মিত বলে স্থানীয়দের ধারণা। ২০০৮ সাল থেকে এটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার না হওয়ায় গেটটির কপাটসহ বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, আত্রাই নদীর পানি নিয়ন্ত্রণে স্লুইচ গেটটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গেটটি সচল থাকলে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষিজমিতে পানির ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে গেটটি অকেজো থাকায় নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এতে বর্ষা ও অতিবৃষ্টির সময় আশপাশের কৃষিজমিতে পানির প্রভাব পড়ে এবং ফসল উৎপাদনে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
কৃষকরা জানান, সময়মতো পানি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে বর্ষার পানি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমেও সেচের পানির ব্যবহার পরিকল্পিতভাবে করা যেত। কিন্তু স্লুইচ গেটটি অকেজো থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে কৃষকদের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক জমি ও জলাশয়ও কাঙ্ক্ষিতভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্লুইচ গেটটি অকেজো থাকার কারণে পুকুর ও জলাশয়ে মাছ চাষের ক্ষেত্রেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। আত্রাই নদীর পানি প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় স্থানীয় মৎস্যচাষিরা কাঙ্ক্ষিতভাবে পানি ব্যবস্থাপনা করতে পারছেন না। ফলে মাছ চাষে আগ্রহ থাকলেও অনেকে ঝুঁকি নিয়ে পুকুরে মাছ চাষ করতে পারছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন, শুধু কৃষি ও মৎস্য খাত নয়, স্লুইচ গেটটি সচল হলে পুরো এলাকার পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। কয়েকটি গ্রামের কৃষক ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই পুরোনো ও জরাজীর্ণ গেটটি দ্রুত সংস্কার করে সচল করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে স্লুইচ গেটটির বর্তমান অবস্থা নিরূপণ করুন। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে গেটটির কপাট ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ সংস্কার করে দ্রুত সচল করা হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাশয়ে মাছ চাষ এবং স্থানীয় পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অকেজো হয়ে থাকা খানসামা উপজেলার একমাত্র স্লুইচ গেটটি দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে কৃষক ও মৎস্যচাষিদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান