বঙ্গোপসাগরের তলদেশ থেকে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং উত্তোলিত গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের করণীয় বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যারা সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশে রাজনীতি করার জন্য নিষিদ্ধ এবং যাদের অতীত ইতিহাস খুন, গুম, লুণ্ঠন ও মানুষের কণ্ঠরোধের ইতিহাস—তারা গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে বাধা সৃষ্টি করতে চাইলে মানিকগঞ্জের মাটিতে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, তাদের নেতা বাংলাদেশের সব মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন সৎ রাজনৈতিক নেতা। তিনি সারা বিশ্বে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়েছেন। এ কারণে তাদের মধ্যে হিংসা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
সভায় দেশের বিভিন্ন স্থানে পটকা ও ককটেল বিস্ফোরণ এবং ব্যানার টাঙানোর মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগও করেন তিনি।
বঙ্গোপসাগরের গ্যাস প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ভারত গ্যাস উত্তোলন করছে এবং বাংলাদেশের গ্যাসও ভূগর্ভস্থ পথে চলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি আগের সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা করে বঙ্গোপসাগরের তলদেশ থেকে গ্যাস উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। উত্তোলিত গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রতিটি ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে নেতৃত্ব নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সারের মজুত প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যে পরিমাণ সার রেখে যাওয়া হয়েছিল, বর্তমানে তার চেয়ে বেশি সার মজুত রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে এবং কোথাও সারের সংকট নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ কবীর জিন্নাহ, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্ত, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ হোসেন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নূরতাজ আলম বাহার, গোলাম আবেদীন কায়সার, কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু, সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান তুহিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জিন্নাহ খান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাকিবুল ইসলাম, ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভ ও সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল রহমান খানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সভা শেষে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগের প্রতিবাদে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান