সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের ভুরকি ও ইশবপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন ধলা মিয়া ভুরকি গ্রামের এবং হাজী ছফির আলী ইশবপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাদের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনকে জড়ো করা হলে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে। পরে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে পুরো এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষে লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন ধলা মিয়াসহ মো. মাসুক মিয়া, কবির মিয়া, মিজানুর রহমান, আতিকুর রহমান, আব্দুল ওয়াহিদ টিটন, জাকির আহমদ, হাজী ছফির আলী, তাজ মিয়া, জনি আহমদ, জয়নাল মিয়া, কয়ছর মিয়া, জমিল মিয়া, সাইদ উদ্দিন, আলিম উদ্দিনসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে বিশ্বনাথ থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তী সময়ে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান