জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় হামিদুল শেখ (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে জয়পুরহাট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ আব্দুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত হামিদুল শেখ পাঁচবিবি উপজেলার শন্তাদিগর গ্রামের মৃত সামছুদ্দিন শেখের ছেলে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ দুপুরে শন্তাদিগর গ্রামের ওই স্কুলছাত্রী নিজ বাড়ির আঙিনায় ঝাড়ু দিচ্ছিল। এ সময় বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী হিসেবে পরিচিত হামিদুল শেখ জোরপূর্বক তার মুখে ওড়না চেপে ধরে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তার গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পেলে পরিবারে বিষয়টি নিয়ে জানাজানি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট পাঁচবিবি থানায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্তের পর একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাসুম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর আদালতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। বিচার প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণাদি পর্যালোচনা শেষে আদালত হামিদুল শেখকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।
আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমের একটি পর্যায় শেষ হলো
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান