স্থানীয়ভাবে পণ্য বেচাকেনা ও উদ্যোক্তাদের সহযোগিতার উদ্দেশ্যে তৈরি ফেসবুক গ্রুপ ‘নীলফামারী অনলাইন শপ’ এখন চরম বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েছে। ই-কমার্সের নামে শুরু হওয়া গ্রুপটি বর্তমানে অসামাজিক কর্মকাণ্ড, সাইবার বুলিং এবং ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি ফাঁসের আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অনলাইন অপপ্রচারের কারণে চরম মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় শত শত তরুণ-তরুণী।
সাইবার বুলিংয়ের ফাঁদে তরুণ-তরুণীরা
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গ্রুপটিতে কেনাকাটার বাহানায় ফেক আইডি ব্যবহার করে তরুণ-তরুণীদের ছবি ও স্পর্শকাতর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, ট্রোলিং এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীরা এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "গ্রুপে যুক্ত হয়েছিলাম কেনাকাটার উদ্দেশ্যে। কিন্তু হঠাৎ করেই আমার ছবি ব্যবহার করে ট্রোল করা শুরু হয়। এতে সামাজিকভাবে চরম হেয় প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে।"
অ্যাডমিন প্যানেলের গাফিলতির অভিযোগ
গ্রুপটিতে কোনো নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় অনৈতিক ও অসামাজিক কন্টেন্ট অনায়াসে ছড়িয়ে পড়ছে। সচেতন মহলের মতে, সঠিক ভেরিফিকেশন ও মডারেশন ছাড়া গ্রুপটি পরিচালনা করার কারণেই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মটির অ্যাডমিন প্যানেলের ভূমিকা নিয়েও উঠতে শুরু করেছে তীব্র প্রশ্ন।
সামাজিক প্রতিবাদ ও প্রশাসনের কাছে দাবি
অনলাইন প্ল্যাটফর্মটির এমন অপব্যবহারে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও যুবসমাজ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সামাজিক মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকরা একজোট হয়ে রিপোর্টিং ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন। একই সঙ্গে গ্রুপটির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধনের মতো কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ জানিয়েছেন, এ ধরনের সাইবার অপরাধ তরুণ সমাজের ভবিষ্যত ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নীলফামারী জেলা পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কাছে দ্রুত এই পেজ বা গ্রুপের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানানো হয়েছে।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান