ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫ জনই জামালপুরের, একই পরিবারের চারজন
সায়েম হোসেন ।। জামালপুর জেলা প্রতিনিধি/ বার্তা পাঠানো হয়েছে
শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
ময়মনসিংহে বাসচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার সাত যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহতরা হলেন—জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫), তাঁর মা রাশিদা বেগম (৮৫), মেয়ে মর্জিনা (২৫), মর্জিনার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মিনাল এবং একই ইউনিয়নের বীর গোবিন্দবাড়ী গ্রামের সুজন আলী। নিহত অপর দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্বজনরা জানান, শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মোফাজ্জল হোসেন লেবু তাঁর মা রাশিদা বেগম, দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে মর্জিনা ও নাতি মিনালকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। নান্দিনা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় প্রথমে ময়মনসিংহে যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। পরে সেখান থেকে বাসযোগে গাজীপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ময়মনসিংহ বাইপাস সড়কের পূর্ব গন্দ্রপা এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা। বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়।
নিহত মোফাজ্জাল হোসেন লেবু পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে গাজীপুরের হুতাপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। তাঁর মা রাশিদা বেগম ও বিবাহিত মেয়ে মর্জিনাকে গাজীপুরের বাসায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আগের দিন তিনি বাড়িতে এসেছিলেন।
মোফাজ্জাল হোসেন লেবুর ভাবি ইসমতারা বলেন, তাঁর দেবর গাজীপুরে দিনমজুরের কাজ করতেন। পরিবারের সদস্যদের গাজীপুরে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। মর্জিনা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। একই সঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে তাঁরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বলে জানান তিনি।
প্রতিবেশী সোহেল রানা বলেন, একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মর্জিনা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন উল্লেখ করে তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
দুর্ঘটনার ঘটনায় স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। একই পরিবারের চার সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।