
আগুনে পুড়ে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের এখলাছ উদ্দিন। তবে বিপদের এই কঠিন সময়ে বন্ধুকে একা থাকতে দেননি তাঁর স্কুলজীবনের সহপাঠীরা। দীর্ঘ ৩৪ বছর পরও অটুট থাকা বন্ধুত্বের টানে ছুটে এসে বিপর্যস্ত এখলাছের পাশে দাঁড়িয়েছেন ধল্লা ইউনিয়ন কাউন্সিল উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি-১৯৯২ ব্যাচের বন্ধুরা।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এখলাছ উদ্দিনের বাড়িতে যান তাঁর ১৫-২০ জন সহপাঠী। আগুনে বিধ্বস্ত বাড়ির অবস্থা দেখে তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বন্ধুকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তাও করেন তাঁরা। তবে সহায়তার পরিমাণ প্রকাশ করতে চাননি ব্যাচ-৯২-এর বন্ধুরা।
সহপাঠীরা বলেন, বন্ধুত্ব শুধু স্কুলজীবনের স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ নয়; বিপদের সময়ে বন্ধুর পাশে দাঁড়ানোই বন্ধুত্বের প্রকৃত পরিচয়। দীর্ঘ ৩৪ বছর পরও সেই বন্ধন অটুট রেখে বিপর্যস্ত বন্ধুর পাশে দাঁড়াতে পেরে তাঁরা নিজেদের গর্বিত মনে করছেন।
বন্ধুদের পাশে পেয়ে আবেগাপ্লুত এখলাছ উদ্দিন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “বিপদের সময়ে মানুষকে চেনা যায়। বন্ধুরা এসে পাশে দাঁড়িয়ে আজ আমাকে সেটিই আবারও বুঝিয়ে দিলেন। আগুনে আমার অনেক কিছু পুড়ে গেছে, কিন্তু বন্ধুদের ভালোবাসা আমাকে নতুন করে সাহস দিয়েছে। তাঁদের এই ভালোবাসা ও সহযোগিতার কথা আমি কোনোদিন ভুলব না।”
এ সময় ব্যাচ-৯২-এর সহপাঠী অতিরিক্ত কর কমিশনার মো. মাসুম বিল্লাহ সানি, মো. আতাউর রহমান, মো. আব্দুল মোত্তালিব ও হাজী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তাঁরা বলেন, বিপদের দিনে বন্ধুর পাশে দাঁড়ানোই বন্ধুত্বের সবচেয়ে বড় পরিচয়। জীবনের কঠিন সময়ে এখলাছ যেন নিজেকে একা মনে না করেন—এই বার্তা দিতেই তাঁরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন।
এ উদ্যোগে একাত্মতা প্রকাশ করেন সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম। তিনি সহপাঠীদের সঙ্গে এখলাছ উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে বলেন, মানুষের বিপদের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এমন ভালো কাজের সঙ্গে থাকতে পেরে তিনি কৃতজ্ঞ। পুলিশও মানবিক ও কল্যাণমূলক যেকোনো ভালো কাজের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এখলাছ উদ্দিন ও তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার দুপুরে এখলাছ উদ্দিনের বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রয়োজনীয় মালামাল পুড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।