
মানিকগঞ্জে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঐতিহ্যবাহী কালীগঙ্গা নদীতে বর্ণাঢ্য নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) জেলার বেউথা এলাকায় কালীগঙ্গা নদীতে আয়োজিত এ নৌকাবাইচ দেখতে সকাল থেকেই নদীর দুই পাড়ে জড়ো হতে থাকেন হাজারো মানুষ। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েক লাখে পৌঁছায়। নৌকাবাইচকে ঘিরে পুরো বেউথা এলাকা পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়।
দুপুরে নদীর বুকে শুরু হয় মূল প্রতিযোগিতা। বড় ও ছোট মিলিয়ে প্রায় ৩০টি নৌকা এতে অংশ নেয়। ঢাক-ঢোল ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে মাঝিদের ছন্দময় বৈঠার আঘাতে নৌকাগুলো নদীর বুক চিরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলে। নৌকার গতি ও প্রতিযোগিতার উত্তেজনায় নদীর দুই পাড়ে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রতিযোগী দলগুলো নিজেদের নৌকা নিয়ে অংশ নেয়। মাঝি ও নৌকার সদস্যদের উৎসাহ দিতে দর্শকরা হাততালি, হর্ষধ্বনি ও স্লোগানে নদীপাড় মুখর করে তোলেন। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে নৌকাবাইচ উপভোগ করতে আসেন। কেউ কেউ নদীর পাড়ের উঁচু ভবন, সেতু ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রতিযোগীদের জন্য রাখা হয় আকর্ষণীয় পুরস্কার। বিজয়ীদের জন্য মোট ৪টি মোটরসাইকেল ও ১৬টি ফ্রিজ পুরস্কার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। ফলে প্রতিযোগী দলগুলোর মধ্যেও ছিল বাড়তি উৎসাহ ও উদ্দীপনা।
নৌকাবাইচ উপলক্ষে কালীগঙ্গা নদীর দুই পাড়ে বসে বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকানপাট। শিশু-কিশোরদের জন্য ছিল খেলনা ও বিনোদনের নানা আয়োজন। পাশাপাশি বিভিন্ন খাবারের দোকানেও ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের পদচারণায় পুরো বেউথা এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
নৌকাবাইচের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মিজ আফরোজা খানম রিতা। তিনি নৌকাবাইচ উপভোগ করেন এবং আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেন।
নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেন। নদীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। দর্শনার্থীদের নিরাপদে নৌকাবাইচ উপভোগের সুযোগ দিতে নদীর পাড় ও আশপাশের এলাকায় বাড়ানো হয় নজরদারি।
আয়োজকদের ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও দর্শনার্থীদের সহযোগিতায় উৎসবমুখর পরিবেশে নৌকাবাইচটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন অব্যাহত রাখার মাধ্যমে কালীগঙ্গা নদীর পুরোনো ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতি সংরক্ষণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন স্থানীয়রা।