
রোববার (৪ অক্টোবর) লামা বন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত হাতি সংরক্ষণ ও বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব বিষয় উঠে আসে। অনুষ্ঠানে বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন অধিদপ্তর ঢাকার প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো, লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন এবং লামা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ কাইছার হামিদ।
লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সহকারী বন সংরক্ষক মাসুদ আলম।
সভায় বন্যহাতি সংরক্ষণ ও তাদের আবাসস্থল রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি হাতির বিচরণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জানমাল ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং মানুষ-হাতির সংঘাত নিয়ন্ত্রণে করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, বন্যহাতি দেশের জীববৈচিত্র্য ও বনজ পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হাতির স্বাভাবিক বিচরণ ও আবাসস্থল সংরক্ষণের পাশাপাশি হাতির বিচরণ এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকাও সুরক্ষিত রাখতে হবে। এ জন্য বন বিভাগ, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬টি পরিবারের মাঝে মোট ২১ লাখ ৫৯ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এ অর্থ সাময়িক আর্থিক সহায়তা হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
লামা ও পার্বত্য অঞ্চলের বনাঞ্চলে বন্যহাতির বিচরণ দীর্ঘদিনের। বনাঞ্চল ও হাতির আবাসস্থলের কাছাকাছি মানুষের বসতি এবং কৃষিজমি থাকায় বিভিন্ন সময় মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাতের সৃষ্টি হয়। এতে মানুষের বসতবাড়ি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি হাতিরও প্রাণহানি বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বক্তারা বলেন, শুধু ক্ষতিপূরণ প্রদান করলেই মানুষ-হাতির সংঘাতের স্থায়ী সমাধান হবে না। সংঘাতের মূল কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা, হাতির চলাচল ও বিচরণ সম্পর্কে আগাম তথ্য দেওয়া এবং বন বিভাগের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথিসহ উপস্থিত কর্মকর্তারা হাতি সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে বন্যহাতির উপস্থিতি বা চলাচলের খবর পেলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণের মধ্য দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেমন আর্থিক সহায়তা পেল, তেমনি বন্যহাতির আবাসস্থল রক্ষা এবং মানুষ-হাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও উঠে এসেছে।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান