“ফ্যাসিবাদের নাগপাশ কাটিয়ে আমরা যে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, সেই উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রধান পাথেয় কিন্তু আপনারাই—শিক্ষক সমাজ।”
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিশাল দাস।
শিক্ষকদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার বাবা ও মা দুজনই শিক্ষিত ছিলেন। তাঁরা শিক্ষার আদর্শে বিশ্বাস করতেন। তাঁদের কাছ থেকেই আমি শিক্ষা, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও আদর্শের প্রথম পাঠ পেয়েছি। আমার বাবা-মায়ের সেই আদর্শকে আমি বিশ্বাস করি এবং জীবনে ধারণ করার চেষ্টা করি।”
তিনি আরও বলেন, একজন মানুষের জীবনে পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষকদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার একটি শিশুর ভিত্তি তৈরি করে, আর শিক্ষক সেই ভিত্তির ওপর জ্ঞান, বিবেক, নৈতিকতা ও মানবিকতার শক্ত ভিত গড়ে দেন।
বিশাল দাস বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না; তিনি শিক্ষার্থীর চিন্তা, চরিত্র ও ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির পেছনে শিক্ষকদের অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ পরিচালনা করবে। তাদের সৎ, যোগ্য, দক্ষ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের হাতেই আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। আপনারা জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেবেন, নৈতিকতার শিক্ষা দেবেন—তাহলেই আমরা একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন, মানবিক ও উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারব।”
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে পরিবার থেকে পাওয়া আদর্শ, শিক্ষকদের অবদান এবং আগামী প্রজন্মকে সঠিক পথে গড়ে তোলার বিষয়ে নিজের প্রত্যয়ের কথা তুলে ধরেন তিনি।
বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাওয়া আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশাল দাসের এ বক্তব্য উপস্থিত শিক্ষক সমাজের মধ্যেও বিশেষ তাৎপর্য সৃষ্টি করে।
শিক্ষকদের হাত ধরেই আলোকিত হবে আগামী প্রজন্ম, আর সেই প্রজন্মের হাত ধরেই গড়ে উঠবে কাঙ্ক্ষিত উন্নত বাংলাদেশ—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান