নাটোরের লালপুরে এক নারীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে গণধর্ষণ, ধর্ষণের ভিডিও ধারণ এবং ওই ভিডিও দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় পুলিশ পরিচয়ে ভুক্তভোগীর কাছে ৬০ হাজার টাকা দাবি এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—লালপুরের ছয় রাস্তার মোড় মন্ডলপাড়ার মো. আশিক (২২), জোতদৈবকী গ্রামের মো. শাকিল হোসেন বাঁধন (২০) এবং একই এলাকার মো. কাজল (২২)। এ ঘটনায় মেহেদী নামে আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে লালপুর থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটির জিআর নম্বর ২৮০/২০২৬ (লালপুর)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৩ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ২৪ বছর বয়সী ওই নারী আশিকের সঙ্গে দেখা করতে লালপুর থানার গোপালপুর রেলগেটের দক্ষিণ পাশে সিএনজি স্ট্যান্ডে যান। পরে আশিক ও কাজল তাকে ইজিবাইকে করে একটি পার্কে নিয়ে যান। সেখান থেকে বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে জোতদৈবকী গ্রামের শাকিলের বাড়ির একটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ওই ঘরে আশিক ভুক্তভোগীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন। এ সময় শাকিল গোপনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে শাকিলও তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর কাজল সেখানে প্রবেশ করে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একই দিন বিকেল ৫টার দিকে মেহেদী নামে এক ব্যক্তি ওই ঘরে প্রবেশ করে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেন। পরে তিনি ভুক্তভোগীর কাছে ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার ব্যবহৃত ভিভো স্মার্টফোন থেকে সিমকার্ড খুলে নেওয়া এবং মোবাইল ফোনটি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় লালপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে। পুলিশ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার অপর আসামির বিষয়ে তদন্ত চলছে।
মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা হবে।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান