আশ্বিনের মাঝামাঝি সময়েই জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে অনুভূত হচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। ভোরে চারপাশে হালকা কুয়াশা, ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরে চিকচিক করছে সকালের আলো। মেঠোপথ ধরে হাঁটলে বাতাসে অনুভূত হচ্ছে ঠান্ডার পরশ।
সকালের বদলে যাওয়া পরিবেশে গ্রামবাংলার চেনা দৃশ্যেও এসেছে নতুন মাত্রা। ধানখেতের ওপর হালকা কুয়াশার আস্তরণ, পাতায় পাতায় শিশির। দূরের পথ কুয়াশায় হয়ে উঠছে অস্পষ্ট। ভোরের ঠান্ডা বাতাস উপেক্ষা করেই অবশ্য কাজে বেরিয়ে পড়ছেন কৃষকেরা।
এখন আমন ধানের মৌসুম। আর কিছুদিন পরই মাঠের ধান পাকতে শুরু করবে। ফলে কৃষকদের ব্যস্ততাও বাড়ছে। ভোরের ঠান্ডার মধ্যেই কেউ যাচ্ছেন জমিতে, কেউ ব্যস্ত ফসলের পরিচর্যায়। সামনে দুর্গাপূজা, এরপরই আসবে অগ্রহায়ণের নবান্ন। গ্রামীণ জনপদে তাই প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে মানুষের ব্যস্ততার ছন্দও।
ক্ষেতলাল উপজেলার বানাইচ গ্রামের বাসিন্দা আফসার আলী মন্ডল (৬৮) বলেন, “আশ্বিনের মাঝামাঝি সময়েই কুয়াশা ও হালকা ঠান্ডা পড়ায় এলাকায় শীতের আমেজ পাওয়া যাচ্ছে। ভোরে বাইরে বের হলে ঠান্ডাটা বেশ ভালোভাবেই অনুভূত হচ্ছে।”
কালাই উপজেলার সুরাইল গ্রামের বাসিন্দা ও ‘আল্পনা দই এন্ড মিষ্টি ঘর’-এর মালিক আ. কারিম বলেন, “কয়েক দিন ধরে ভোরে কুয়াশা ও হালকা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। সকালে বাইরে বের হলে শীতের আমেজ বেশ ভালোভাবেই টের পাওয়া যায়।”
দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য কুয়াশা কেটে যায়। বাড়ে রোদের তেজ, ফিরে আসে দিনের উষ্ণতা। তবে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই আবার অনুভূত হয় হালকা ঠান্ডা। দিনের গরম আর রাতের শীতলতার এই পালাবদলেই চলছে এখন জয়পুরহাটের মানুষের দিনযাপন।
শীত এখনো পুরোপুরি আসেনি। তবু ভোরের কুয়াশা, শিশিরভেজা ঘাস আর ঠান্ডা বাতাস যেন আগেভাগেই তার খবর দিয়ে যাচ্ছে। আশ্বিনের প্রকৃতিতে তাই এখন শীতের অপেক্ষার চেয়ে শীতের পদধ্বনিই যেন বেশি স্পষ্ট।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান