
প্রচণ্ড গরম কিংবা বৃষ্টি—কোনো প্রতিকূলতাই থামাতে পারেনি সংগ্রামী মা জলি বেগমকে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে নিজ হাতে চিকেন ফ্রাই ও বার্গার তৈরি করে বিক্রি করছেন তিনি। একমাত্র ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগাতে প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে তার এই সংগ্রাম।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র পাঁচমাথা পৌর পার্কের সামনের রাস্তায় গড়ে উঠেছে জলি বেগমের ছোট্ট মিনি চাইনিজ দোকান। দোকানটির নাম দিয়েছেন ‘বেস্ট কোয়ালিটি’। প্রতিদিন বিকেল হলেই দোকান সাজিয়ে বসেন তিনি। গরম, বৃষ্টি, ধুলাবালি—সবকিছুকে উপেক্ষা করে রাত পর্যন্ত চলে তার কর্মব্যস্ততা।
জলি বেগমের বাড়ি পাঁচবিবি উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের চড়া কেশবপুর গ্রামে। তিনি জানান, শুক্রবার ও শনিবার সরকারি অফিস বন্ধ থাকায় অন্য দিনের তুলনায় এ দুই দিনে বেচাকেনা কিছুটা ভালো হয়। এই দোকান থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়েই তিনি তার একমাত্র ছেলেকে বগুড়ায় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াচ্ছেন।
সংগ্রামী জলি বেগম বলেন, “প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত গরম, বৃষ্টি ও রাস্তার পাশের ধুলাবালি উপেক্ষা করে এত কষ্ট করছি শুধু আমার একমাত্র আদরের বুকের মানিক ছেলেকে পড়ালেখা করিয়ে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। আমার স্বামীও এ কাজে আমাকে সহযোগিতা করেন।”
এদিকে জলি বেগমের ‘বেস্ট কোয়ালিটি’ মিনি চাইনিজ দোকানে চিকেন ফ্রাই খাচ্ছিলেন মো. ইফাত আল সানি। তিনি বলেন, “বেস্ট কোয়ালিটি দোকানের চিকেন ফ্রাই আকারেও বড়, খেতেও বেশ সুস্বাদু। সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো, এখানে ৬০ টাকায় পাওয়া যায়, অথচ চাইনিজ রেস্টুরেন্টে একই ধরনের খাবারের জন্য ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়। আধুনিক রেস্টুরেন্টের তুলনায় জলির মিনি রেস্টুরেন্টের চিকেন ফ্রাই ও বার্গারের আকার যেমন বড়, মানও তেমন ভালো।”
জলি বেগমের এই সংগ্রাম শুধু জীবিকার জন্য নয়; এটি একজন মায়ের সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার নিরন্তর লড়াই। প্রতিকূল পরিবেশেও একমাত্র ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষের মতো মানুষ করার যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি প্রতিদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, তার সেই সংগ্রাম যেন সাফল্যের মুখ দেখে—এটাই প্রত্যাশা।