
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় পরকীয়ার অভিযোগ ও পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর ছুরিকাঘাতে রাশেদুল ইসলাম (৩৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে তার স্ত্রী হাসনা আক্তার (৩২) পলাতক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাশেদুল ইসলাম লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা থানার ধুবনী গ্রামের মৃত ছোরমান আলীর ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক। রাশেদুল সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার এসকেএইচ গার্মেন্টসে স্যাম্পল সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী হাসনা আক্তারও একটি গার্মেন্টসে মেশিন অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৯ সালে ধল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধল্লা এলাকায় বিভিন্ন জেলার ১২ জন মিলে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন। বর্তমানে সেখানে নয়টি পরিবার বসবাস করছে। তাদের মধ্যে রাশেদুল ও হাসনা দম্পতির পরিবারও ছিল।
প্রতিবেশীরা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাশেদুল ও হাসনার মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। বৃহস্পতিবার ভোররাতে তাদের দুই সন্তানের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। এ সময় ঘরের বাইরে রাশেদুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার স্ত্রী হাসনাকে ছুরি হাতে মারমুখী অবস্থায় দেখা যায় বলে প্রতিবেশীদের দাবি।
পরে সন্তানদের মাধ্যমে ঘরের দরজা খুলে আহত রাশেদুলকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বাড়ির পাশের সড়কে বের করা হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় হাসনা পালিয়ে যান বলে স্থানীয়রা জানান।
নিহতের ছেলে আবুল হাসান জানায়, সে ও তার বাবা একই কক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। পাশের কক্ষে তার মা ও বোন ঘুমিয়ে ছিল। রাত আনুমানিক ৪টার দিকে বাবার চিৎকারে তার ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় সে বাবাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়। তার দাবি, মাকে রক্তাক্ত ছুরি হাতে বাবার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এবং মাকে বলতে শোনে, ‘অন্যের সঙ্গে তোর সম্পর্কের স্বাদ মিটিয়ে দিলাম।’
নিহতের মেয়ে ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রুমাইয়া জানায়, তার মা কিছুদিন আগে একটি ধারালো ছুরি এনে আলমারিতে লুকিয়ে রেখেছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মা তাকে বলেছিলেন, ওই ছুরি দিয়ে তার জন্মদিনের কেক কাটবেন। রুমাইয়ার দাবি, সেই ছুরি দিয়েই তার বাবাকে আঘাত করা হয়েছে।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও রক্তমাখা জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।