লালমনিরহাটের তিস্তা সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ২০০ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ করা মালামালের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে এক সন্দেহভাজন পাচারকারী ব্যাগ ও মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাতে তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)-এর একটি বিশেষ টহল দল তিস্তা নদীর তীরবর্তী সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ মাদক প্রবেশ ঠেকাতে দলটি সতর্কতার সঙ্গে নজরদারি চালায়।
অভিযান চলাকালে রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে সীমান্তের জিরো লাইন অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দ্রুতগতিতে একটি মোটরসাইকেল প্রবেশ করতে দেখা যায়। এ সময় বিজিবি সদস্যরা মোটরসাইকেলটিকে থামার সংকেত দেন। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চালক দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সে পালিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে একটি ব্যাগ ও মোটরসাইকেল ফেলে যায়।
পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত ব্যাগ ও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেন। ব্যাগের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ হাজার ২০০ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
জব্দ করা মালামাল
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ মোঃ মুসাহিদ মাসুম, বিজিবিএম, পিএসসি জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচারের যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা এবং সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
জব্দ করা ইয়াবা ট্যাবলেট ও মোটরসাইকেলের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজন পাচারকারীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান