
চট্টগ্রামের পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের পশ্চিম পাশের ঝোপঝাড়ে গাঁজা সেবনের অভিযোগে জামাল উদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয়রা তাঁকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় বিদ্যালয়ের মাঠে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করে। পাশের সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচল করেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। অথচ বিদ্যালয় মাঠের পশ্চিম কোণের ঝোপঝাড় দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।
খবর পেয়ে বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে যান পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানুর রহমান এবং পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক। পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
আদালতে জবানবন্দি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় জামাল উদ্দিনকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত জামাল উদ্দিনের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার মোরল্লা গ্রামে। বর্তমানে তিনি চন্দনাইশ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। আদালতে তিনি নিজেকে ভিক্ষুক বলে দাবি করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিদ্যালয় মাঠের পশ্চিম পাশের ঝোপঝাড়ে জামালসহ কয়েকজনের নিয়মিত গাঁজা সেবনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া পাশের ভবনের নারীদের উত্ত্যক্ত করা ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সদস্যসচিব নাছির উদ্দীন বলেন, মাঠের পশ্চিম পাশের জঙ্গলে কয়েকজনকে প্রায়ই গাঁজা সেবন করতে দেখা যায়। পাশাপাশি মাঠের আশপাশে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতও রয়েছে। এসব বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি প্রয়োজন।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, জনস্বার্থে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক জানান, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি চলমান রয়েছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, একজনকে সাজা দেওয়ার পাশাপাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিদ্যালয় মাঠের পশ্চিম পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নিয়মিত পুলিশি টহল এবং স্থানীয়দের নজরদারি নিশ্চিত করা না গেলে সেখানে আবারও মাদকসেবীদের আড্ডা গড়ে উঠতে পারে।