রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হাইমচরে মাসিক উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে কৃতিত্বের জন্য গ্রাম পুলিশকে পুরস্কৃত হাইমচরে ৬ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীদের সঙ্গে এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের মতবিনিময় ধামইরহাট উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলামের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, নেতা-কর্মীদের মধ্যে আনন্দ রাঙ্গামাটির বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব চন্দনাইশে গাছবাড়ীয়া সার্বজনীন হরিমন্দিরে বস্ত্র বিতরণ, উপস্থিত পুলিশ সুপার হাইমচরের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে: এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক মানিকগঞ্জে যমুনা নদীতে অভিযান, ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ইলিশ জব্দ পাঁচবিবিতে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল, চ্যাম্পিয়ন রনি একাদশ মেলান্দহে ৮৩ পিস ইয়াবাসহ বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার, কারাগারে হরিরামপুরে বিদ্যুৎ সংযোগের ক্যাবল রাখা নিয়ে বিরোধ, মন্দির কমিটির সম্পাদককে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

লামায় ২১ লাখ টাকার সড়ককাজে অনিয়মের অভিযোগ, কয়েক দিনেই ধসে পড়ল গাইড ওয়াল

mijanur rohman
সাদ্দাম হোসেন সাইফ | লামা, বান্দরবান / বার্তা পাঠানো হয়েছে
শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
  • শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাংগু মোটরস; নির্মাণের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি স্থানীয়দে

বান্দরবানের লামা উপজেলার ইয়াংছা–বদুরঝিরি সড়কে গাইড ওয়াল ও আরসিসি আউটলেট ড্রেন নির্মাণকাজে ধীরগতি এবং নির্মাণের কয়েক দিনের মধ্যেই গাইড ওয়ালের একাংশ ধসে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দেয়ালের অংশবিশেষ ধসে পড়ার পর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এতে সড়কে চলাচল ও কৃষিপণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ বেড়েছে।

সরকারি চুক্তির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাংগু মোটরস। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী নিপুর কান্তি দাস। তাঁর ব্যবসায়িক ঠিকানা বান্দরবান সদর উপজেলার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বালাঘাটা হিন্দুপাড়া। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিট অফিস প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ২১ লাখ ৪০ হাজার ৭৬৭ টাকা ৫ পয়সা। চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ২০২৬ সালের ৪ জুন। কাজ শেষ করার প্রস্তাবিত তারিখ ২০২৭ সালের ৩০ জুন। অর্থাৎ, প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। তবে কাজের অগ্রগতি ও নির্মিত গাইড ওয়ালের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নির্মাণের কয়েক দিনের মধ্যেই ধস

স্থানীয়দের ভাষ্য, কিছুদিন আগে সড়কটিতে গাইড ওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু কাজ শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই দেয়ালের কিছু অংশ ধসে পড়ে। এরপর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ তাঁদের।

কী কারণে দেয়ালটি ধসে পড়েছে, নির্মাণে নির্ধারিত মানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে কি না এবং অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ প্রকৌশলগত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের মতে, নির্মাণকাজের মান যাচাই এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি প্রমাণিত হলে চুক্তির শর্ত ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তাঁরা।

কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত, বাড়ছে দুর্ভোগ

ইয়াংছা–বদুরঝিরি সড়কটি স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ। সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন কৃষকেরা। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত এবং নির্মাণকাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা না হলে সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয়দের অভিযোগ, গাইড ওয়ালের অংশ ধসে পড়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে আর নির্মাণস্থলে দেখা যাচ্ছে না। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকিও তাঁদের চোখে পড়ছে না।

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাংগু মোটরসের স্বত্বাধিকারী নিপুর কান্তি দাস এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পে নির্মাণের মান নিশ্চিত করা, কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তাই ধসের কারণ অনুসন্ধান, প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন এবং তদারকিতে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

দ্রুত তদন্ত ও টেকসই নির্মাণের দাবি

এলাকার সচেতন মহল ও সাধারণ বাসিন্দারা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের কাছে দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন, ধসে পড়া গাইড ওয়ালের কারিগরি পরীক্ষা এবং নির্মাণকাজের মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, ২১ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পে নির্মিত গাইড ওয়ালের অংশ অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ধসে পড়ল কেন? নির্মাণকাজের মান যাচাই ও তদারকির দায়িত্বে কারা ছিলেন? এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেবে?

জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়নকাজের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে ইয়াংছা–বদুরঝিরি সড়কের নির্মাণকাজ টেকসইভাবে সম্পন্ন করা হবে এবং এলাকার মানুষের নিরাপদ যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনের দুর্ভোগ কমবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত II দৈনিক জনতার দেশকন্ঠ II আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ। জিমেইল : janatardeshkhantho@gmail.com
Theme Customized By BreakingNews