রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হাইমচরে মাসিক উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে কৃতিত্বের জন্য গ্রাম পুলিশকে পুরস্কৃত হাইমচরে ৬ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীদের সঙ্গে এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের মতবিনিময় ধামইরহাট উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলামের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, নেতা-কর্মীদের মধ্যে আনন্দ রাঙ্গামাটির বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব চন্দনাইশে গাছবাড়ীয়া সার্বজনীন হরিমন্দিরে বস্ত্র বিতরণ, উপস্থিত পুলিশ সুপার হাইমচরের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে: এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক মানিকগঞ্জে যমুনা নদীতে অভিযান, ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ইলিশ জব্দ পাঁচবিবিতে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল, চ্যাম্পিয়ন রনি একাদশ মেলান্দহে ৮৩ পিস ইয়াবাসহ বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার, কারাগারে হরিরামপুরে বিদ্যুৎ সংযোগের ক্যাবল রাখা নিয়ে বিরোধ, মন্দির কমিটির সম্পাদককে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে ১৪ ঠিকাদারের অভিযোগ, ভিত্তিহীন বলছেন নির্বাহী প্রকৌশলী

mijanur rohman
মোঃ মাহ্ফুজুল হক খান (জিকু), কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি / বার্তা পাঠানো হয়েছে
সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
  • সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

কিশোরগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে সরকারি উন্নয়নকাজের দরপত্র, চুক্তি সম্পাদন, বিল পরিশোধ ও নিরাপত্তা জামানত ফেরত নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ১৪ জন ঠিকাদার এসব অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে একদিনে ২৭টি দরপত্রের চুক্তি সম্পাদন, পরদিনই বিলের চেক ইস্যু, দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণ এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের আশঙ্কা। তবে অভিযোগগুলোকে ‘মনগড়া ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য, নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে কয়েকজন ঠিকাদার তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

২৭টি দরপত্রের চুক্তি ও বিল নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ২১ জুন কিশোরগঞ্জ মডেল মসজিদের ২৭টি ওটিএম (ওপেন টেন্ডারিং মেথড) দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরদিন ২২ জুন চুক্তিপত্র সম্পন্ন এবং ২৩ জুন সংশ্লিষ্ট কাজের বিলের চেক দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদাররা। তাঁদের দাবি, এসব কাজ পেয়েছেন পাঁচজন ঠিকাদার।

অভিযোগকারীদের উত্থাপিত সময়রেখা ও লেনদেনের বিষয়টি যাচাই করতে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, অনুমোদন, কার্যাদেশ, চুক্তিপত্র, কাজের পরিমাপ বই এবং বিল পরিশোধের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চেক ইস্যুর তারিখ ও অর্থ পরিশোধের যথাযথ ভিত্তি খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

তবে একদিনে একাধিক চুক্তি সম্পাদন কিংবা পরদিন চেক ইস্যু হওয়াই অনিয়মের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা এবং প্রযোজ্য বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা যাচাইয়ের মাধ্যমেই প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব।

৩৫টি কাজের দরপত্র পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি

অভিযোগপত্রে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে অন্তত ৩৫টি কাজের দরপত্র পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ঠিকাদারদের দাবি, এসব কাজের ক্ষেত্রে এলটিএম (লিমিটেড টেন্ডারিং মেথড) পদ্ধতি অনুসরণের পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি সংবাদপত্রে প্রকাশ না করা এবং সীমিতসংখ্যক ঠিকাদারের মধ্যে কাজ বণ্টনের অভিযোগও রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি কাজের প্রাক্কলিত মূল্য, ক্রয়পরিকল্পনা, দরপত্র আহ্বানের পদ্ধতি, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নিয়ম এবং অনুমোদনসংক্রান্ত নথি যাচাই করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সময়ের কার্যকর সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।

প্রায় ৪৫ লাখ টাকার নয়টি চেক নিয়েও অভিযোগ

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বিভিন্ন কাজের বিল পরিশোধ, কথিত ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন, নিরাপত্তা জামানত ফেরত এবং ঈদুল আজহার আগে প্রায় ৪৫ লাখ টাকার নয়টি চেক ইস্যু নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

এ ছাড়া মডেল মসজিদ, মিঠামইন শিল্পকলা একাডেমি, আইনজীবী ভবন ও বিভিন্ন থানা ভবনের উন্নয়নকাজ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। সরকারি বাসভবন সংস্কার, সরকারি গাড়ির ব্যবহার, অফিসে উপস্থিতি এবং সরকারি কোয়ার্টার সংস্কারসংক্রান্ত বিষয়ও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এসব অভিযোগ যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট বিল-ভাউচার, পরিমাপ বই, অনুমোদিত ব্যয়, চেকের প্রাপক, ব্যাংক লেনদেন, নিরাপত্তা জামানত ফেরতের হিসাব এবং সংস্কারকাজের অনুমোদন পরীক্ষা করা প্রয়োজন। অভিযোগে উল্লেখ করা অর্থের পরিমাণ ও লেনদেনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

অভিযোগগুলো মনগড়া বলছেন নির্বাহী প্রকৌশলী

নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর অভিযোগগুলোকে মনগড়া ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কয়েকজন ঠিকাদার নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

এ ছাড়া পূর্ববর্তী তদন্তেও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে তাঁর বক্তব্য। তবে আগের তদন্তের প্রতিবেদন, তদন্তের পরিধি এবং বর্তমান অভিযোগগুলোর সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগকারীদের বক্তব্যের সমর্থনে কী ধরনের নথি রয়েছে, সেটিও পর্যালোচনা করা জরুরি।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

কিশোরগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু নিষ্পত্তিতে নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক তদন্তের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগে উল্লিখিত ২৭টি দরপত্রের চুক্তি ও বিলের সময়রেখা, ৩৫টি কাজের দরপত্র পদ্ধতি, প্রায় ৪৫ লাখ টাকার নয়টি চেক এবং নিরাপত্তা জামানতসংক্রান্ত হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন।

তদন্তে অভিযোগকারীদের বক্তব্যের পাশাপাশি নির্বাহী প্রকৌশলীর ব্যাখ্যা ও সংশ্লিষ্ট নথিও পর্যালোচনা করতে হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া না গেলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন।

সরকারি উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পরিবর্তে নথি যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন এবং দায় নির্ধারণের দাবি উঠেছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত II দৈনিক জনতার দেশকন্ঠ II আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ। জিমেইল : janatardeshkhantho@gmail.com
Theme Customized By BreakingNews